এফএনএস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের সাধারণ জনগণের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইন ও প্রশাসন কোর্স থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সময়োপযোগী উন্নয়ন প্রশাসন গড়ে তুলে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আপনারা নিবেদিত থাকবেন, জনগণের পাশে থাকবেন। মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন। গতকাল বুধবার সকালে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ১১৯ এবং ১২০তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শাহবাগস্থ বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বক্তৃতা করেন। প্রতিষ্ঠানের রেক্টর মোমিনুর রশিদ আমিন স্বাগত বক্তৃতা করেন। ১১৯ এবং ১২০তম ব্যাচের শীর্ষ স্থান অর্জনকারি এবং রেক্টর পদক প্রাপ্ত স্বীকৃতি প্রামাণিক ও উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ এবং মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারকারীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকান্ডের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই নিজেকে জনগণের একজন সেবক হিসেবে দেখেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমি মনে করি, আমার দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কাছেও আমি এটা চাই, আপনারা জনগণের সেবক হিসেবেই কাজ করবেন। কারণ, আজকে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, এই বিশ্বায়নের যুগে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরা কিছুতেই পিছিয়ে থাকতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি আপনারা আপনাদের প্রশিক্ষণলদ্ধ জ্ঞান, মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবেন। শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে দেশের সকল গৃহহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ায় তাঁর সরকারের কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকারি মাঠ প্রশাসনকে এ সময় ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ও পুণর্ব্যক্ত করেন।
দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন বিশে^র অনেক উন্নত দেশেও খাদ্যাভাব দেখা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি পতিত জমি এবং ঘরের আশপাশের জমিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সমস্ত জমি রয়েছে সেগুলো কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টগুলো বা পুলিশের বা বর্ডার গার্ড অর্থাৎ যে যেখানে কাজ করে যেখানে যতটুকু জমি রয়েছে সেখানেই প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু উৎপাদন করতে হবে এবং এটা অব্যাহত রাখতে হবে, বলেন তিনি।