সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা

‘চলন্ত বাস-ট্রেনে সন্তান প্রসবের দুই ঘটনাই ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : গত ১৬ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে রাজশাহী অভিমূখি সাগরদাড়ি আন্তঃনগর ট্রেনে এবং ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী রিলাক্স পরিবহনে চলমানবস্থায় নবজাতক জন্ম দেবার ঘটনা ঘটে। বিষয় দুটো তখন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ হওয়াতে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হবার পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ট্রেনে দায়িত্বরত সহোযোগিতাকারীদেরকে পুরষ্কৃতও করা হয়েছিল। চলন্ত গণপরিবহনে গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসবের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়িত হলেও সন্তান প্রসবের অন্তিম মুহুর্তে বিষয়টি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য গাইনী ও অব্স বিশেষজ্ঞদের।

ভাগ্য যদি অনুকূলে না থেকে প্রতিকুলে থাকতো তবে ঘটতে পারতো ভয়ঙ্কর কিছু। এমন মন্তব্য গাইনী ও অবস্ বিভাগের ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের। উক্ত সময় ঐ ট্রেনে ছিলেন সদ্য বিসিএস সম্পন্ন করা একজন এমবিবিএস ডাক্তার ও নার্স। আর অন্যদিকে, কক্সবাজারগামী বাসটির অন্তঃসত্ত্বা সেই যাত্রী যাত্রাপথে পেয়েছিলেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু চিকিৎসক ও মিডওয়াইফদের সহযোগিতা বলে জানাগেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।

উভয় ক্ষেত্রে যদি ডাক্তার, নার্স কিংবা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অনুপস্থিতি থাকতো তবে ঘটতে পারতো অন্যকিছু বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের। তাই, যে কোন মুহুর্তে কোন অন্তঃসত্ত্বা মহিলার প্রসব বেদনা ওঠার সম্ভাবনা আছে এমন অবস্থায় এক থেকে দেড় ঘন্টা কিংবা এর উর্দ্ধের দূরত্বের যাত্রাপথে যাত্রা করাটা পরিপূর্ণ ঝুঁকি বলে মন্তব্য রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (গাইনী ও অব্স) ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার। তিনি এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে আরো বলেন, যদি বিষয়টি অত্যাবশ্যক হয়ে ওঠে অর্থ্যাৎ বড় কোন শহরের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নবজাতক জন্ম দেবার জন্য অন্তঃসত্ত্বা কোন মহিলাকে আসতেই হয় তবে, ট্রেন কিংবা বাসের মতো কোন গণপরিবহনে না এসে আরামদায়ক কোন মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেট কার ভাড়া করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ কোন নার্স সঙ্গে রেখে যাত্রা করাটা কিছুটা হলেও কম ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে, অন্তিম মুহুর্তে এই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে দূরের রাস্তায় যাত্রা করাটা সমুচিত নয় কখনোই। তিনি আরো বলেন, গর্ভবতী কোন মহিলার সময়কাল ৩৫ থেকে ৪০ সপ্তাহ অতিক্রম করলে দূরের যাত্রা না করাটাই শ্রেয়। এদিকে, এবিষয়ে অভিজ্ঞরা আরো জানান, প্রসবকালীন সময়ে ও পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে ঘটতে পারতো মা কিংবা শিশু অথবা উভয়ের মৃত্যুর মতো ঘটনাও। ট্রেনটিতে যদি ঐ সময় কোন ডাক্তার না থাকতো কিংবা বাসটি যদি কোন অজোপাড়া গ্রামের রাস্তায় অবস্থান করতো কিংবা নষ্ট হয়ে কয়েক ঘন্টা সময়ক্ষেপন হতো, তবে অন্তঃসত্ত্বা ঐ মহিলাদের ভাগ্য কি ঘটতো সেটি অনুমেয় একটি বিষয় বলে মন্তব্য ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার। তিনি আরো বলেন, প্রথমবার সন্তান জন্ম দেবার সময় সর্বদা একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত প্রসবকালিন সময়ে।

তিনি আরো বলেন, গর্ভাবস্থার জটিলতা আছে এমন মহিলাদের জন্য ভ্রমণের সুপারিশ করে না চিকিৎসকেরা। কিন্তু এরপরেও যদি ভ্রমণের পরিকল্পনা কেউ করেন, তাহলে প্রসূতি-স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (গাইন-অব্স) বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে কথা বলে ভ্রমণ করা উচিত বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। এবং কোন গর্ভবতী নারী যেভাবেই ভ্রমণ করতে চান না কেন, আরাম এবং নিরাপত্তার বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিতকল্পে সেটি করা উচিত। ডা. ফাতেমা জানান, গর্ভবতীবস্থায় ভ্রমণ করার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ছাড়াও ভ্রমণের সময় হাঁটুর নীচে কম্প্রেশন স্টকিংস সমান ইলাস্টিক পরতে হবে। চার ঘণ্টার বেশি ভ্রমণের আগে এবং পরে হেপারিন ইনজেকশন গ্রহণ করতে হবে। হঠাৎ ঝাঁকুনি গর্ভবতী মহিলার প্লাসেন্টাকে শরীরের জরায়ু থেকে আলাদা করতে পারে।

এ বিষয়ে, বিশেষজ্ঞরা জানান, ডিভিটি পালমোনারি এমবোলিজম নামক বিপজ্জনক অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে ভ্রমণের কারণ। গবেষণায় দেখাগেছে গাড়ী, ট্রেন, বাস, প্লেন বা যে কোন ধরনের ভ্রমণ ৪ ঘন্টা বা তার বেশি স্থায়ী হলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। সাধারণত, মহিলাদের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য ৩৬ সপ্তাহ পরে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য ২৮ থেকে ৩৫ সপ্তাহ পরে বিমান ভ্রমণের অনুমতি নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী অভিমূখি সাগরদাড়ি ট্রেনে ভেড়ামারা স্টেশন থেকে রাজশাহীতে সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে আসছিলেন সাবিনা নামের একজন গর্ভবতী মহিলা। কিছুদূর আসার পরেই ট্রেনের ভেতর তার প্রসব বেদনা চরমে পৌছায়। প্রসব বেদনা শুরু হলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি ট্রেনের কন্ডাক্টিং গাডর্কে জানানো হলে তিনি বিষয়টি গার্ড ইনচার্জ আজিমুল হোসেনকে অবগত করেন।

অতঃপর ট্রেনের মাইকে সন্তান প্রসবের ব্যাপারে একজন চিকিৎসকের সাহায্য কামনা করা হয়। মাইকে ঘোষণা শুনে একজন নারী চিকিৎসক নির্ধারিত কামরায় গিয়ে অন্যান্যদের সহযোগিতায় বাচ্চা প্রসবের কাজটি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি আসার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়িত্বে একটি এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মা ও নবজাতককে রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসটিতেও গর্ভবতী ঐ মহিলার প্রসব বেদনা ওঠে গন্তব্য পথের প্রায় মধ্যস্থানে। পটিয়া উপজেলার রাস্তা সংলগ্ন একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকায় বাসটি সেখানে গিয়ে দাড়ায় চিকিৎসেবা নেবার জন্য। গর্ভবতী ঐ মহিলার অবস্থা এতোটাই গুরুতর ছিল যে, তাকে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেয়াটাও দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।

কোন উপায়ন্তর না দেখে বাসের ভেতরেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের দায়িত্বরতা গর্ভবতী মহিলার পেঁট থেকে নবজাতক প্রসব করার কাজটি সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, বাসের যাত্রা পথে ভাঙ্গা রাস্তার ঝাঁকুনি আর রেললাইনের স্থলে অপর্যাপ্ত পাথর আর পুরাতন স্লিপার থাকায় ট্রেনের ঝাঁকুনি একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। এছাড়াও আন্তঃজেলা বিমানগুলোতেও ল্যান্ডিংকালীন সময়ে হালকা যে ঝাঁকুনি দেয় সেটিও অন্তিম মুহুর্তের কোন গর্ভবতী মহিলার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। বিষয়গুলো নিয়ে ইতিমধ্যেই ট্রেনে একজন করে অভিজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দেবার দাবি উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris