সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের পরিকল্পনা করছে সরকার

Paris
Update : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১

এফএনএস : শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি মাস থেকে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে অনেককে সরকারি সুবিধার আওতায় আনা হবে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) আয়োজনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সেমিনার কক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে শিক্ষকদের মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ছিল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এ মাস থেকেই নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কাজ শুরু হবে। নন-এমপিও সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর আওতায় আনা হবে। শিক্ষক ও জাতির প্রয়োজনে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা জাতীয়করণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তাদের ওপরই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। বিএনপি সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শিক্ষাবান্ধব সরকার ১৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৩০টি কলেজ, ৩২০টি হাইস্কুলসহ সাড়ে চার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে ইতিহাসের মাইলফলক স্থাপন করেছেন। অপরাজনীতি থেকে শিক্ষকদের দূরে থাকার আহ্বানও জানান তিনি। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মশিউর রহমান, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আবদুস সালাম ও মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর নুরুল ইসলাম।

সেমিনার লিখিত প্রবন্ধ উপস্থান করবেন স্বাশিপ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু। এ সময় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আট দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হলো- শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি-বেসরকারি, এমপিও-ননএমপিও বৈষম্য দ্রুততার সঙ্গে নিরসন করে অভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বর্তমান বাস্তবতা ও স্পর্শকাতরতা দূরীকরণে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সরকারি অনুরূপ বাড়িভাড়া ও উৎসব ভাতা নিশ্চিত করা। শ্রেণিকক্ষকে আরও আকর্ষণীয়, মনোগ্রাহী করার জন্য শিক্ষকদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ। শিক্ষকরা জাঁতি নির্মাণের কারিগর, অন্যান্য পেশার চেয়ে আলাদা।

কাজেই তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল নির্ধারণ করা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী ও স্বচ্ছ মনের ব্যক্তিদের নিয়ে অন্তর্ভুক্তকরণ। শিক্ষার যাবতীয় নীতিনির্ধারণের সকল স্তরে শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বৈশ্বিক দক্ষতা সম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করা। বিশ্বসমাজ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সমৃদ্ধ টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে একটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নতুন ও উদ্যমী প্রজন্ম সৃষ্টির জন্য শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা।

এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সময় এসেছে। এ বিষয়ে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না করে, সেগুলোকে সরকারের আওতায় আনা প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশা, ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান ও সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম (এন আই) খান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ একটি যৌক্তিক দাবি। এমপিওভুক্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা যে অর্থ পান, তা দিয়ে তাদের পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। সেটি নজরে এসেছে, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

এতে কত টাকার প্রয়োজন, তা হিসাব-নিকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। তিনি শিক্ষকদের বিষয়ে অনেক আন্তরিক। মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সব স্থানে যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সময়ের প্রয়োজনে এটা করা হয়েছে। বর্তমানে সময় এসেছে সেগুলো গুছিয়ে নেওয়ার। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করা সরকারকে সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি দেশের ক্ষমতায় বসতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সবার চেষ্টায় তাদের হটাতে হবে। সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম (এন আই) খান বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা ভাগে বিভক্ত হয়েছে। সেটি একীভূত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দলনেতার ভূমিকা পালন করলেও তাদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রতি জোর দিতে হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris