স্টাফ রিপোর্টার : গত বৃহস্পতিবার বেলা বারোটায় রাজশাহী নগরীর কামারুজ্জামান চত্বরে দায়িত্বরত পুলিশের সাথে দুই যুবকের হাতাহাতি, সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশের উপর হামলা করে খামজখম করার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করে চালন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। থানার অফিসার্স ইনচার্জ নিবারণ চন্দ্র বর্মণ দৈনিক আমাদের রাজশাহীকে জানান, অভিযুক্ত ঐ দুই যুবকের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৮৬, ৩২, ৩৫৩ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ এনে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে বিচারের নিমিত্তে চালান দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, উচ্ছৃঙ্খল ঐ দুই যুবককে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের হাতে থাকা চাইনিজ একটি রাইফেল পড়ে গিয়ে দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে জানাগেছে, গ্রেফতার হওয়া ঐ দুই যুবক তানোর থানার পদধারী ছাত্রলীগ নেতা। যার কারণে, গ্রেফতার হওয়ার পর বোয়ালিয়া মডেল থানাসহ শিরোইল পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযুক্ত দুই নেতাকে ছাড়ানোর জন্য জোড় তোতবীর চালায় অনেকেই। কিন্তু পুলিশের কঠোর অবস্থানের জন্য তাদেরদ্বার কৃত অপরাধের প্রেক্ষিতে ঐ দুই যুবককে আইনের আওতায় এনে অবশেষে বিজ্ঞ আদালতে চালান দেওয়া হয় কৃত অপরাধের বিপরীতে প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বলে জানান বোয়ালিয়া থানার ওসি।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার নগরীর রেলগেটস্থ কামারুজ্জামান চত্বরে তানোর থেকে আসা দুই যুবক অযাচিত কারণে রাস্তার উপরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালীন সময়ে পুলিশের সাথে তারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পুলিশের একাধিকবার অনুরোধের পরেও তারা তাদের আচরণে নিয়ন্ত্রণ না আনলে আরো বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য উক্তস্থানে এগিয়ে যাওয়া মাত্রই ঐ দুই যুবক পুলিশকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তিমূলক কথা বার্তা বলা ছাড়াও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করলে দেখে নেবার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে জানান সেখানে দাযিত্বরত পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কিতেও জড়িয়ে পড়েন। সালাম নামের এক পুলিশ সদস্যকে তারা মারধর করে খামজখমও করেন।
তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে থাকা চাইনিজ একটি রাইফেল অনাকাঙ্খিতভাবে নিচে পরে গিয়ে দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। অবশেষে কোন উপায়ন্তর না দেখে পুলিশ সদস্যরা থানাকে বিষয়টি অবগত করলে টহলরত পুলিশের একটি ভ্যান ঘটনাস্থলে এসে ঐ দুই যুবককে গ্রেফতার করে প্রথমে পার্শ্ববর্তী শিরোইল পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্ত দুই যুবককে ছাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পন্থায় অনেকেই চেষ্টা করলেও সেখানের দায়িত্বরত ফাঁড়ি ইনচার্জ তাদেরকে না ছেড়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করেন। এবং ঐদিন রাতেই তাদের নামে একাধিক ধারায় মামলা দেয়া সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। অন্যদিকে, সরকারি নিয়মানুযায়ী দ্বিখন্ডিত হওয়া রাইফেলটি জমা দেয়া হয়েছে বলেও জানায় থানা কর্তৃপক্ষ।