সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা

নির্মাণ কাজ শেষের আগেই পদ্মায় তলিয়ে গেল মসজিদ

Paris
Update : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি গ্রামের প্রায় ৪৫টি পরিবারের জন্য একটি মাত্র ওয়াক্তিয়া মসজিদ। টিনের মসজিদটিকে গ্রামের বাসিন্দারা চাঁদা তুলে ইট দিয়ে গাঁথুনি ও ঢালাই কাজের উদ্যোগ নেয়। মাসখানেক আগে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করে মাটির নিচ থেকে পিলার ও ইট গাঁথার কাজ শুরু শেষ হয়েছে। মসজিদ নির্মাণ কাজের এক-তৃতীয়াংশ কাজ হওয়ার পরই শুরু হয় নদী ভাঙন। পদ্মা নদীর আধা কিলোমিটার দূরে হলেও গতমাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ ভাঙন শুরু হলে মসজিদের কাছাকাছি চলে আসে নদী। ১৫ দিন বিরতি দিয়ে গত রবিবার আবারও হঠাৎ ভাঙন শুরু হলে মূহুর্তে পদ্মায় তলিয়ে যায় গোয়ালডুবি ওয়াক্তিয়া মসজিদ।

রবিবার সন্ধ্যায় এই ভাঙন হয় বলে নিশ্চিত করেন মসজিদের মুসল্লী আব্দুর রহমান। রবিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সারাদিনে গোয়ালডুবি গ্রামের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত গোয়ালডুবি গ্রামের ৩২টি বাড়ি পদ্মায় তলিয়ে গেছে। গতমাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকশ বিঘা ফসলী জমি, আম বাগান ও বিভিন্ন গাছপালা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে পাউবোর চলমান নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের একজন ঠিকাদারের কয়েক হাজার সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে গেছে। আগষ্ট মাসের শেষ দিকে ভাঙ্গনের তীব্রতা কমলেও আবারও শুরু হয়েছে ভাঙ্গন।

গত সোমবার বকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন মসজিদের প্রায় সবটুকুই নদীতে তলিয়ে গেছে। বাইরের কিছু অংশ ও সীমানা প্রাচীরের পিলার মাটিতে আছে। গোয়ালডুবি গ্রামে পদ্মার এমন অদ্ভুত আচরণ এর আর কখনও দেখা যায়নি বলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয় বাসিন্দা রাজিবুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তাই গ্রামের সকল পরিবারের কাছে চাঁদা তোলা হয়েছে। নদীতে পানি বাড়া স্বত্বেও নতুন করে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের আধা কিলোমিটার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলার কাজও শুরু করেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কেউ কোনদিন কল্পনাও করেনি নতুন মোড় নিয়ে পদ্মায় এভাবে কখনও ভাঙন হবে। মুসল্লী আব্দুর রহমান জানান, গতমাসের ১৭ তারিখে সর্বশেষ ভাঙন হয়েছিল এখানে। এরপর অন্তত ১৫ দিন সময় পাওয়া গেছিল।

গ্রামবাসীর শত অনুরোধেও পাউবো গ্রামটি রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেনি। হয়ত জিও ব্যাগ ফেললে রবিবার (০৫ আগষ্ট) হঠাৎ করে যে তান্ডব চালিয়েছে, তা থেকে মসজিদসহ আরও কয়েকটি বাড়ি রক্ষা পেত। গোয়ালডুবি ওয়াক্তিয়া মসজিদ কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে গ্রামের সকলের সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করি। প্রথমবার হঠাৎ ভাঙন দেখে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের ধারনা ছিল, নদী সবসময় পাড়ে ভাঙন হয়। কিন্তু এভাবে পাশে বহুদূর চলে যাওয়ার ঘটনা বিরল। শুধু মসজিদটিই নয়, তার পাশে থাকা নতুন নতুন পাঁকা ভবনও বিলীন হয়েছে পদ্মায়।

চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইব্রাহিম আলী জানান, পদ্মার এমন অদ্ভুত আচরনে নিঃস্ব গোয়ালডুবি গ্রামের বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে ভাঙনের হুমকিতে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে অনেকেই। এমনকি গ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। অনেকেই সব হারিয়ে অন্যের আম বাগান, ফসলী জমিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে গোয়ালডুবিসহ হুমকির মধ্যে রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী, মোড়লপাড়া, ফাটাপাড়া, চাকপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ময়েজ বলেন, হঠাৎ করেই রবিবার সকাল থেকে পদ্মার চরবাগডাঙ্গা গোয়ালডুবি এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

এদিন সকাল থেকে দিনের সময় বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। সকাল থেকে পদ্মা বাম তীর সংরক্ষন প্রকল্পের সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধানো এলাকারও কিছু অংশ নদীতে চলে গেছে। এদিন গোয়ালডুবি গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ও নির্মাণাধীন মসজিদ তলিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে আমরা পদ্মার এমন অদ্ভুত আচরন কখনও দেখিনি৷ সাধারণত সোজা বয়ে চলা নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা যায়। কিন্তু গোয়ালডুবি গ্রামে বড় একটি জায়গা নিয়ে নদীর পাশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙন শুরু করেছে। নদীর পাড়ে অন্য কোথাও ভাঙন না থাকলেও এখানেই বারবার ভাঙন হচ্ছে।

এতে চরম হুমকীর মুখে রয়েছে পুরাতন বাঁধ। সবমিলিয়ে পদ্মা তীরের অবস্থা খুব ভালো নয়, আস্তে আস্তে লোকালয়ের কাছে চলে যাচ্ছে পদ্মা। জিও ব্যাগ ফেলেও কোন উপকারে আসছে না। উল্লেখ্য, পদ্মার তীর সংরক্ষণে ৫৬৬ কোটি টাকার সম্প্র্রসারিত প্রকল্পের ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয় জানুয়ারিতে। চলতি বছরে জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। পরের বছরে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris