চারঘাট প্রতিনিধি : সংস্কার করেও চারঘাটে বিদ্যালয়ের মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতার পর এবার পানিতে ডুুুবে গেছে দুটি বিদ্যালয়ের অফিস ও ক্লাসরুম। বিদ্যালয়ের রুমের ভেতরে পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ জরুরি কাগজপত্র। বিদ্যালয় দুটি হলো চারঘাটের নন্দনগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং কামিনী গঙ্গারামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশে বিদ্যালয় দুটি অবস্থিত।
নন্দনগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা বরাদ্দে বিদ্যালয়ের মাঠটির সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে আরও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় মাঠের পাশের পুকুর পাড় বেঁধে সংস্কার করা হয়। অথচ এত টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ করার পরেও বছরের ৬ মাস ধরে মাঠে জমে থাকে পানি। খেলাধুলা হয়ে গেছে বন্ধ।
এরপর গত শনিবার ও রবিবারের সামন্য বৃষ্টিতে ঐ বিদ্যালয় এবং তার পার্শ্ববর্তী কামিনী গঙ্গারামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও ক্লাসরুম পানিতে ডুবে গেছে। বিদ্যালয় দুটিতে পুকুরের মত টলমল করছে পানি। অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খেলার মাঠ ও পুকুর নিয়ে বাণিজ্য এবং অপরিকল্পিত সংস্কার কাজের জন্য বিদ্যালয়ের আজ এমন অবস্থা। নালা বন্ধ করে নন্দনগাছী উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর খনন করেছে। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিদ্যালয় দুটি পুকুরে পরিণত হয়েছে।
কামিনী গঙ্গারামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা খাতুন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই আমার বিদ্যালয় ডুবে যাচ্ছে। ক্লাসরুম ও অফিসে পানি ঢুকছে। পার্শ্ববর্তী নন্দনগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ও পুকুর সংস্কার করার পর থেকে এ অবস্থা। তাদের সংস্কার কাজে পানি প্রবাহের নালা বন্ধ হয়ে গেছে। বরং তাদের মাঠ ও পুকুর সংস্কারের আগে আমার বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করতো না।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বার বার বলেও বিদ্যালয় রক্ষা করতে পারছি না।
নন্দনগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান শিবলী বলেন, বিদ্যালয়ের ভালোর জন্যই মাঠ ও পুকুর সংস্কার করেছি। কিন্তু আশে পাশের বাজার ও বাসা বাড়ির পানি মাঠে ও বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করছে। সংস্কার কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জলাবদ্ধতার কারনে বিদ্যালয় দুটির করুণ অবস্থা। ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ও দেড় লক্ষ টাকায় পুকুর সংস্কার করে জলাবদ্ধতা আরো বেড়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।