স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে আরডিএ’র আয়োজনে ‘পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং টেকসই ও নিরাপদ নির্মাণে অংশীজনের ভূমিকা’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরডিএর চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে নগরীর আরডিএ ভবনের সেমিনার কক্ষে সরকারের বিভন্ন দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ পরিকল্পিত নগরায়ন করতে সরকারের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা মোতাবেক বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে রাজশাহী নগরীকে বাসযোগ্য করতে রাস্তা ড্রেন ও হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরী করার পূর্বে সরকারি নিয়ম মানার ব্যাপারে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের তদারকি বাড়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বহুতল ভবন নির্মাণের পূর্বে বিল্ডিং কোড মানার এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কড়া নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে সকলে একমত হন।
আলোচনা সভায় আরডিএর চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেন বলেন, আমাদের একার দ্বারা পরিকল্পিত রাজশাহী গড়া সম্ভব নয় যদি সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলো একসাথে কাজ না করে তাহলে। বিশেষ করে পুলিশের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অংশীজনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুর রাকিব, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স রাজশাহীর সহকারি পরিচালক আব্দুর রশিদ, ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন, রাসিকের সচিব আবু হায়াদ মো. রহমতুল্লাহ, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমিন, রেডা’র সেক্রেটারি মিজানুর রহমান কাজী, ইউডিডি’র সিনিয়র প্ল্যানার ফখরুল ইসলাম, নওহাটা পৌরসভার সচিব মিজানুর রহমান প্রমূখ। সভাটির সঞ্চালনা ও প্রেজেন্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, নওহাটা পৌরসভা, কাঁটাখালী পৌরসভা ১২টি ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রায় ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণে সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করার প্রতি বিশেষ দিকনির্দেশনা নিয়ে উক্ত সভাতে বিশদভাবে আলোচনা হয়। একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী গঠনে ইমারত নির্মাণ নিয়ন্ত্রণকারি কর্তৃপক্ষসহ ইমারত নির্মাণকারী, ইমারত ব্যবহারকারী এবং ইমারতে সেবাপ্রদানকারী সংস্থাসহ সকল অংশীজনের নিয়মতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং ইতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি উক্ত আলোচনা সভায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। আরডিএ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোন ভবন নির্মাণ করা হলে উক্ত ভবনে ওয়াসা ও বিদ্যুত সংযোগ না দেবার জন্যও একটি প্রস্তাবনা করেন কর্তৃপক্ষ।
ভূঁইফোড় ডেভেলপারস প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিমালিকানায় নির্মাণ করা বহুতল ভবনগুলো অনেক সময় সরকারি সংস্থাগুলোর বেধে দেওয়া নিয়মনীতি অমান্য করে নগরীতে ভবন নির্মাণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রেডার। বিদ্যুতের পোল ঘেঁষে বাড়ী নির্মাণ হচ্ছে বলে বিষয়টি উক্ত সভায় অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন নেসকো থেকে আসা প্রতিনিধি। নগরীতে ছয়তলার উর্দ্ধে ভবন নির্মিত হলে সেখানে আগুন নেভানোর মতো সক্ষমতা নগর ফায়ার সার্ভিসের নেই বলেও উক্ত সভায় বিষয় তুলে ধরা হয়। অংশীজনদের অংশগ্রহনে এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার আহবান জানান অংশগ্রহণকারীরা। সকলের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সকল নিয়মনীতি মান্য সাপেক্ষে যেনো ভবন নির্মাণ করা হয় সেটির প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিজনিজ স্থান থেকে আরো বেশি সোচ্চার হবার আহবান জানান আরডিএ কর্তৃপক্ষ।