দরিদ্রদের আচরণ পরিবর্তনে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রনয়ন
এফএনএস : ‘বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন ক্যাম্পেইন আল্ট্রাপুওর সিলেকশন’ খাতে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয় হবে প্রকল্পের আওতায়। দরিদ্রদের আচরণ পরিবর্তনে করতে নানা ক্যাম্পেইনে এসব টাকা ব্যয় করা হবে। পাবলিক প্লেসে ছোট ছোট অনুষ্ঠান প্রচারণার মাধ্যমে দরিদ্রদের আচরণ পরিবর্তন করতে চায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। যাতে করে দরিদ্ররা সঠিকভাবে হাত ধোয়া শিখতে পারেন। ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মানুষের আচরণ পরিবর্তনের ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশনসহ ৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ২৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ২ হাজার ৪২ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গণভবন থেকে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। একনেক সভায় ২৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। মানবসম্পদ উন্নয়নে ‘গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩০টি জেলার মোট ৯৮টি উপজেলায় বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ৪ মিলিয়ন (৪০ লাখ) লোক তাদের বাসভবনে নিরাপদে পরিচালিত ওয়াশ সুবিধা পাবেন। আরও প্রায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) লোক বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকসহ জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিরাপদে পরিচালিত স্যানিটেশন সুবিধাগুলি পাবেন।
এ ছাড়া প্রায় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন (২৫ লাখ) লোক কাউন্টার পার্টের (পিকেএসএফ) তহবিলের মাধ্যমে নিরাপদে পরিচালিত ওয়াশ সুবিধাগুলি পাবেন। নরসিংদী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৫ কোটি টাকা, খুলনা জেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পটি প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৭ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৯৬ কোটি টকা। প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন প্রকল্পটি দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এবার প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৭৫৪ কোটি টাকা।
গ্যাসের প্রিপেইড মিটার ভাড়া বাড়ছে: একনেকে রাজধানীতে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপনে চলমান একটি প্রকল্পের পরিধি ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রিপেইড মিটার স্থাপন ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ২০ হাজার করা হয়েছে। প্রকল্পের বিদ্যমান আওতা মহানগরীর ৩৪টি থানার স্থলে বাড়িয়ে ৪১টি করা হয়েছে। নতুন করে যাত্রাবাড়ী, বংশাল, গেন্ডারিয়া, লালবাগ, হাজারীবাগ, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বলা হয় জাইকার অর্থায়নে ঘধঃঁৎধষ এধং ঊভভরপরবহপু চৎড়লবপঃ (ইউ- চ৭৮) শীর্ষক প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ দ্বারা অতিরিক্ত আরও এক লাখ হাজার মিটার স্থাপন করা হবে। এর ফলে প্রথম সংশোধনীর ৪৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৭৫৩ কোট ৮৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২ বৎসর বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রকল্পের সারসংক্ষেপে গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়। মিটার ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের কারণ হিসেবে বলা হয়- মিটারের মূল্য ও আয়ুষ্কাল বিবেচনায় বর্তমানে নির্ধারিত মাসিক মিটার ভাড়া ৬০টাকার স্থলে ১০০ টাকার প্রস্তাব করা হয়। প্রসঙ্গত: বর্তমানে আদাবর, বাড্ডা, বনানী, ভাসানটেক, বিমানবন্দর ক্যান্টনমেন্ট, দক্ষিণখান, দারুসসালাম, ধানমন্ডি, গুলশান, হাতিরঝিল, কাফরুল, কলাবাগান, খিলগাঁও, খিলক্ষেত, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, পল্লবী, পল্টন,রমনা, রামপুরা ও রূপনগরে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার একনেকে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ২৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ ২ হাজার ৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং বাকি ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় যুক্ত হন।
