নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় চলমান লকডাউনের মধ্যেও থেমে নেই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৪৮ জন। গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া জেলায় নতুন করে আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৪৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ওই ৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ১৯২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
নওগাঁয় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ১৩ মে। সেই থেকে এই পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা পুরো জেলার করোনা শনাক্তের প্রায় ৪৫ শতাংশ। জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৪৫ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৮ জন মারা গেছেন। মৃত্যের হার ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।
করোনা মোকাবিলায় নওগাঁ স্বাস্থ্য বিভাগ: নওগাঁ করোনা চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালসহ ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালে ৪৫টি, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি এবং জেলার অপর ৯টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি করে মোট ১৩৫টি শয্যা রয়েছে। জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালের কোনোটিতেই আইসিইউ শয্যা নেই। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে চারটি হাসপাতালে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতাল, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা আছে। বাকি ৭টি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ৮২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে।
জেলায় বর্তমানে ৩৯৫ জন করোনা রোগীর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৫৪ জন রোগী জেলার সরকারি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বাকিদের অধিকাংশই বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া অনেকে রাজশাহী কিংবা বগুড়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পার্সন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, জেলার করোনা পরিস্থিতি জানার জন্য এবং মানুষকে নমুনা দিতে আগ্রহী করতে গত রোববার থেকে জেলার ১১টি উপজেলা উন্মুক্ত স্থানে ক্যাম্প করে মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে বিনামূল্যে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে।
বর্তমানে করোনা রোগীর জন্য প্রস্তুত করা সংখ্যার চেয়ে করোনা রোগী কম থাকলেও ভবিষ্যতে করোনা রোগী বেড়ে গেলে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সদর হাসপাতালে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।