১০ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সাপাহারে ৩০ জনকে নিয়ে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
সাপাহারে ৩০ জনকে নিয়ে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ
বিজ্ঞাপন

তোফায়েল আহমেদ, সাপাহার : সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার কারণে তরুণরা যাতে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই নওগাঁর সাপাহারে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় ১৬ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ‘সীমান্ত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম পিএসসি।
প্রথম ব্যাচে সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন সম্ভাবনাময় তরুণকে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং, মোবাইল ডিভাইস অপারেটিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসা পরিচালনা, আত্মকর্মসংস্থান ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক জ্ঞান সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকার বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা অনেক সময় স্থানীয় যুবসমাজকে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়। তাই সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা জরুরি। বেকারত্ব দূর করে তরুণদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারলে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।”
তিনি বলেন, বিজিবির এ উদ্যোগ শুধু সীমান্ত অপরাধ কমাতেই ভূমিকা রাখবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবার ও এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিজিবি অধিনায়ক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু এবং ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মিলটন আলীসহ বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিজিবির এ কর্মমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি তরুণদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার এ উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সচেতন, স্বাবলম্বী ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন