এফএনএস : জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা সভা কমিটি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে কমিটির ষষ্ঠ সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন এটা (এনআইডি সংক্রান্ত কার্যক্রম) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছি- দিনে ৫০০ এনআইডি করার সীমা তুলে দিতে হবে। ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে।
কারণ অনেক মানুষের আবেদন পেন্ডিং আছে। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে এনআইডি করে দিতে হবে। মন্ত্রী বলেন, কোনো কারণে এনআইডি দেয়া সম্ভব না হলে- কী কারণে দেয়া যাচ্ছে না, তা এক মাসের মধ্যে লিখিতভাবে জানিয়ে দিতে হবে। নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়ছে। করোনার অজুহাত দেয়া যাবে না, অফিস বন্ধের কথা বলা যাবে না। বাড়িতে বসে কাজ করা যায়। খুব দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাতে কাজ করতে পারে সেই কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার তালিকা তৈরি করা। এবং ভোটের কাজ পরিচালনা করা। কোনো দেশে এনআইডির কাজ নির্বাচন কমিশন করে না।
অফিস স্থানান্তর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা হবে। এরপর পেন্ডিং কাজগুলো দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। আবেদন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। আমরা জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রম চালু করতে চাই। এনআইডির মতো পাসপোর্টেও মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা সেটাও বলেছি মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। পাসপোর্ট ডিজি এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আগামী মিটিংয়ের আগে, কতগুলো পেন্ডিং আছে ঠিক মতো বলতে পারেনি। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।
আগামী মিটিংয়ে আমাদের রিপোর্ট আকারে দিতে হবে- কতগুলো পেন্ডিং আছে, এই দুই মাসে কতগুলো দিল। সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মোজাম্মেল হক বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বিদেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে যিনি পাঠাবেন তার এনআইডি দিতে হবে। পরে কে পাঠিয়েছেন তা পাওয়া যায় না। ওটার মধ্যে হয়তো কোনো অবৈধ জিনিস থাকতে পারে। পার্সেলে বিমানেরগুলো স্ক্যানিং হবে। এনআইডি নিশ্চিত করেই পার্সেল গ্রহণ করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় (ভার্চুয়ালি ও সশরীরে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।