এফএনএস : ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প হলেই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিধান রয়েছে। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাওয়ানোর জন্য ১৭ হাজার ২৯০ কোটি ২২ হাজার ৫৯ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলা হয়েছিল গতকাল মঙ্গলবার। তবে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে বাদ দিয়েছেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবার দেয়ার ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়নি। যে সিস্টেমে শিক্ষার্থীদের রান্না করে খাবার দেয়া হবে, সেটাকে বাদ দিয়ে অন্য কীভাবে তাদেরকে খাবার দেয়া যায়, সেটা বিবেচনা করে পুনরায় প্রকল্পটি আনার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এত বড় প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করেছিল পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ।
যেখানে ২৫ কোটি টাকার বেশি যে কোনো প্রকল্প আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিধান আছে, তারপরও ১৭ হাজার কোটি টাকার উপরের প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই কেন একনেকে উত্থাপন করা হলো? এমন প্রশ্ন করা হলে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, প্রাইমারি স্কুল মিল’ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়নি। ২৫ কোটি টাকার উপরে প্রকল্পে হলে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। কিন্তু এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই হয়নি।
তবে এটা (বিদ্যালয়ে শিশুদের খাবার দেয়ার বিষয়টি) কিন্তু প্রেজেন্ট হয়েছে। বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রকল্পের কাজ চলছে এখনো। একটা প্রকল্প চলছে যে, দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার স্কুলে ফিডিং কর্মসূচি চলছে। ওটার সাফল্য দেখে এবং আইএমইডির গভীর পর্যবেক্ষণ আছে, সেখানে কর্মসূচির উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে এবং এটাকে সম্প্রসার করতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের স্কুল মিল একটা নীতি আছে।
আমরা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলেছিলাম হয়নি কেন এটা (সম্ভাব্যতা যাচাই), তারা অনেক কিছু সাপ্লিমেন্ট দিয়েছে। যদিও ফুল ফিজিবিলিটির সাপ্লিমেন্ট হয়তো হবে না। আমরা ভেবেছি, এটা সেবাধর্মী, সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তাব করেছি। যাইহোক, এটা বিনিয়োগ প্রকল্প, এর পূর্ণ সম্ভাব্যতা যাচাই করা দরকার ছিল।
প্রকল্প সূত্র বলছে, সারাদেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলা ও ২১টি শিক্ষা থানায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবার দিতে ১৭ হাজার ২৯০ কোটি ২২ হাজার ৫৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকে তোলা হয়েছিল। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া সকল শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল কার্যক্রমের আওতায় এনে তাদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় অবদান রাখা।
নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমানো এবং ভর্তি ও উপস্থিতির হার বাড়ানো। এই একটি প্রকল্প বাদে প্রায় ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।