এফএনএস : গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা না হলেও চলতি বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আর জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) ও সমমান পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত হবে করোনা পরিস্থিতি বুঝে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২১ সালের এইচএসসি সমমান ও এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল দেওয়া হবে না।
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ভিত্তিতে অ্যসাইনমেন্ট ও শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করিয়েই পরীক্ষা নেওয়া হবে। একইভাবে আগামী বছরের (২০২২ সালের) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও হবে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। আর এ বছরের জেএসসি পরীক্ষা যদি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে এই পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ভিত্তিতে।
এজন্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ১৫০ দিন এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ১৮০ দিন ক্লাস করানোর জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী জুন থেকে সপ্তাহে দু’টি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাড়াও কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।
এদিকে আগামী ১৩ জুন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও মো. জাকির হোসেন। মহামারি করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন এমন কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল বুধবার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও টিভি, কমিউনিটি রেডিওসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এতে সকল শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এজন্য বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা নানান পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আগামী ১৩ জুন থেকে আমরা দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের তৈরি করা স্বাস্থ্যবিধির গাইডলাইন অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
তাই বিদ্যালয় খুলে ছেলেমেয়েদের পেছনের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে আগামী ১৩ জুন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এজন্য ১২ জুন পর্যন্ত নতুন করে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নতুন করে আর বড় ধরনের মহামারি আকার ধারণ না করলে ১৩ জুন থেকে সব স্কুল-কলেজ খুলে শিক্ষার্থীদের সশরীরে পাঠদান শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর করোনার দুটি টিকার ডোজ সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রদান সম্পন্ন হলে আবাসিক হল যুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জি এম হাসিবুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক গোলাম ফারুক চৌধুরী।