মঙ্গলবার

১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রচণ্ড গরমে নগরীতে সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’র বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন রাজশাহী বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রাজশাহীর ডিসি জীবিকার তাগিদে একসময়ের যাত্রার নায়ক সামাদের কাঁধে এখন দোতারা রাজশাহীকে বাসযোগ্য শহর গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ

বিলসুতি বিলে জোরপূর্বক বাঁধ নির্মানের চেষ্টা চেয়ারম্যানের

Paris
Update : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় বিলসুতি বিলে খাঁপুর এলাকায় জোর পূর্বক ইউপি চেয়ারম্যানের বাঁধ নির্মানের চেষ্টা। বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এরই মধ্যে স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অবৈধভাবে বিলের মৎস্যচাষ প্রকল্পের লোকজন বাঁধ নির্মাণ শুরু করলে অপর পক্ষের বাধার মুখে পড়ে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাঁধ নির্মাণ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, এটা বাঁধ নির্মাণ নয়, পানির প্রবাহের জন্য খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, দ্বীপপুর ইউনিয়নের খাঁপুর এলাকায় বিলসুতি বিলে মাছচাষের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রায় এক কিলোমিটারের অধিক দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানা জমির ওপর দিয়ে ওই বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। এর ফলে ওই এলাকার ফসলি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।

এতে ব্যাহত হবে ফসলের চাষ সেই সাথে এলাকার মৎস্যজীবীরা সেখানে মাছ ধরতে পারবেন না। এসব তোয়াক্কা না করে ব্যক্তি স্বার্থে মাছচাষের সুবিধার জন্য বিলের মধ্য দিয়ে বাঁধ চেষ্টা করে চেয়ারম্যান। বাঁধ নির্মানের লক্ষ্যে কয়েকদিন থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে খনন কাজ শুরু করা হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকেরা বাধা প্রদান করেন। এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খননকারীরা কাজ বন্ধ রেখে চলে যান। তবে এরপরেও কয়েক দফা তাঁরা খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এদিকে বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা রাজশাহী জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, মুনছুর রহমান, মকছেদ আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, মাছচাষের সুবিধার জন্য বিলসুতি বিলের মাঝখান দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ করা হলে বিলে ব্যাপক হারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে শত শত একর জমি অনাবাদি হয়ে যাবে। এছাড়াও বিলের নিয়ন্ত্রণ প্রভাবশালীদের কব্জায় গেলে সাধারণ জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন না।

তাঁরা অভিযোগ করেন, বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবি জানানোর পর থেকে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে। যেভাবেই হোক তাঁরা বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়াতে এবং তাঁরা প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়াতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান। বাঁধ নির্মানকারী দ্বীপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, ফসলি জমির জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য নিজেদেও অর্থায়নে বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরফলে পানি দ্রুত তম সময়ের মধ্যে অপসারণ হয়ে যাবে। একটি পক্ষ এটাকে বাঁধ নির্মাণ বলে প্রচার করছেন।

কিছু ব্যক্তি সরকারি খাল ভরাট করে সেগুলো দখলে রেখেছেন। তাঁরাই দখল না ছাড়ার জন্য এর বিরোধীতা করছেন। বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, বাঁধ নির্মাণে কারনে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এটা নিয়ে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছে। বাগমারার ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, এই ধরণের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঁধ নির্মাণ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris