আবুল কালাম আজাদ, চারঘাট : রাজশাহী জেলা শহর থেকে ৩৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কয়েক বছর আগেও ধুঁকে ধুঁকে চলছিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। তবে বর্তমানে পাল্টে গেছে এখানকার চিত্র। করোনার এই দুঃসময়েও সিজারের নামে বাণিজ্য, দালাল চক্র এবং অদক্ষ ধাত্রীর হাত থেকে প্রসূতি মায়েদের রক্ষা করে নিরাপদে নরমাল ডেলিভারি করিয়ে সেবার মান উন্নত করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফরা। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবে সফল হয়ে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্বাচিত হয়েছে চারঘাট। গত তিন মাসে এখানে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ২৬০ জন প্রসূতি মা নিরাপদে সন্তান প্রসব করেছেন। সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ৬ জন প্রসূতির।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফরা মিলে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান উন্নত করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ৯৩টি, মার্চ মাসে ৮৮টি এবং গত এপ্রিল মাসে ৮২ টি। সব মিলিয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত তিন মাসে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ২৬৩ জন প্রসূতি মা নিরাপদে সন্তান প্রসব করেছেন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১১৭ জন টি নরমাল ডেলিভারি হয়, যা জেলায় রেকর্ড।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নরমাল ডেলিভারিতে সন্তান প্রসবের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, ওআরটি কর্নার, অটিজম কর্নার, এএনসি ও পিএনসি এবং কেএমসি কর্নার চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রসূতি নারীদের বিনামূল্যে ‘প্রসূতি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এরপর ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত কাউন্সেলিং আর ফ্রি চেকআপ চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি হওয়া রাওথা গ্রামের রুনা বেগম জানান, নরমাল ডেলিভারিতে শুরুতে ভয় লাগলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী ও চিকিৎসকদের সাহসে হাসপাতালে এসে নিরাপদে তাদের সন্তান প্রসব হয়েছে। এতে একদিকে যেমন খরচ কমেছে, অন্যদিকে তারা সুস্থ আছেন।
চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম রবিন জানান, এর আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশন হতো না। কিন্তু বর্তমানে সফল ভাবে সিজারিয়ান অপারেশনও করা হচ্ছে। পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এবং হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ করতে এখানে দক্ষ মিডওয়াইফরা আছেন। যার ফলে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। দিন দিন নরমাল ডেলিভারিতে প্রসূতিদের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ হাসপাতালে এ ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি কম থাকে। পাশাপাশি কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না। সকলের সহযোগিতা পেলে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, পুরো উপজেলার গর্ভবতী মায়েদের ডাটাবেজের মাধ্যমে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে খোঁজখবর নেওয়া হয়। এছাড়াও প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চিকিৎসা এবং পরমার্শ দেওয়া হয়। যার ফলে নিয়মিত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে।