মঙ্গলবার

১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রচণ্ড গরমে নগরীতে সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’র বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন রাজশাহী বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রাজশাহীর ডিসি জীবিকার তাগিদে একসময়ের যাত্রার নায়ক সামাদের কাঁধে এখন দোতারা রাজশাহীকে বাসযোগ্য শহর গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ

গর্বের ছবিগুলোর বেহালদশা কাম্য নয়

Paris
Update : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

শাহানুর রহমান রানা : রাজশাহী মহানগর আ’লীগের উদ্যোগে প্রধান কার্যালয়ের প্রায় সম্মুখভাগে রাস্তার পাশের্^ সরকারি পিএন স্কুলের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমান ও আন্তর্জাতিক নেতৃৃবৃন্দের ঐ সময়কার কিছু ঐতিহাসিক ছবি দেয়ালচিত্র আকারে পরবর্তী ও নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে তুলে ধরা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। দেয়ালের রং অনেকটাই অক্ষত থাকলেও উক্ত দেয়ালে অঙ্কন করা অধিকাংশ ছবিগুলো প্রায় নষ্টের পথে ধাবিত হয়েছে বছর খানেক ধরে। ছবিগুলো একদিকে যেমন, দেশবাসির জন্য গর্ব করার মতো, ঠিক অন্যদিকে, ঐসময়ে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব ও সম্মানের বিষয়টিও ফুট ওঠে অঙ্কনকীত ছবিগুলোতে।

তাই, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ আর দীর্ঘমেয়াদির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে এক প্রকার দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবেই প্রতীয়মান হবার কথা বলে মন্তব্য সচেতন মহলের। কিন্তু, দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, উক্তস্থানের বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলোর একাংশের রং এমনভাবে ঝলছে গেছে কিংবা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে যেটা কিনা মূল ছবিকে ধাবিত করছে বিকৃতির দিকে। এছাড়াও উক্তস্থানটি বেদখলও হয়েছে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ি আর রিক্সা স্ট্যান্ডের হাতে।

ঐ দেয়ালে চিতাঙ্কনের মাধ্যমে ফঁটিয়ে তোলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে করমর্দনবস্থায় ইন্ধিরা গান্ধির ছবি, তুলে ধরা হয়েছে কিউবার জনগণের অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সাথে কথোপকথনে ব্যস্ত শেখ মুজিবের ছবি, ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশ^ মানবতার প্রতিচ্ছবি মাদার তেঁরেসার সাথে আলাপচারিতায় ব্যস্ত শেখ মুজিবের ছবি, আরো আছে মওলানা ভাসানির সাথে অন্তরঙ্গবস্থায় ভালবাসার দেয়ালে আবদ্ধ মেখ মুজিবের ছবি। এছাড়াও উক্ত দেয়ালে অঙ্কন করা হয়েছে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবা-মেয়ের ভালবাসার প্রতিচ্ছবিও।

এছাড়াও আছে শেখ পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান শহীদ শেখ রাসেলের সাথে বাবা শেখ মুজিবের ছবিও। দেয়ালে অঙ্কন করা অধিকাংশ ছবির অবস্থা মোটেও ভাল না। অযত্ন, অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে ইতিমধ্যেই ছবিগুলোর রং নষ্ট হতে শুরু করেছে। উক্ত স্থানের ফুটপাতে একাধিক চা ও পান বিড়ির দোকান ও রিক্সা স্ট্যান্ড থাকার কারণে পথচারি, প্যাটলার আর ক্রেতারা অধিকাংশ সময়েই অঙ্কনরত দেয়াল ঘেষে রাখছে তাদের সাইকেল, বাইকসহ অন্যান্য বস্তু। যার কারণে দেয়ালের ছবিগুলোর রং এতোটাই নষ্ট হয়ে গেছে যেটা কিনা যুদ্ধবিধস্ত একটি দেশের দেয়ালের প্রতিচ্ছবি বহন করছে বলে মন্তব্য অনেকের।

নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রাসিক কর্তৃক রাজশাহী শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তার পাশের দেয়ালগুলোতে নানা রংয়ের চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা করা হলেও উক্ত স্থানের ছবিগুলোর নেই কোন উন্নতি। প্রথমবার দায়ছাড়া গোছের কাজ করে পরবর্তীতে যেনো আর কোন রংয়ের তুলি স্পর্শ করেনি অতীতের স্মৃতিবিজরীত ঘটনাবলির ছবিগুলোর স্থানটিতে। বিষয়টি নিয়ে নগরীর সচেতন মহলের মন্তব্য অনেকটাই বিপরীতমূখী।

কোন কোন ছবির একাংশ থেকে উঠেগেছে রংয়ের আঁচ। কোনটার আবার অর্ধাংশের বেশি নেই রং। কোন কোন ছবির ব্যক্তিদের একটি চেখি নষ্ট হয়ে গেছে রং উঠে যাবার কারণে। ফিদেল ক্র্যাস্তোর সাথে কথোপকথনে ব্যস্ত মুজিবের ছবির নিচের অংশ থেকে রং উঠে গিয়ে কালো মুজিব কোর্ট ধারণ করেছে সাদাতে। অন্যদিকে, বাবা-মেয়ের ছবি ঘেঁষে রাখা হয়েছে একাধিক হালকা বাহন। মওলানা ভাসানীর কপাল ও বাম চোখটি নষ্ট হয়েছে রং উঠে যাবার কারণে আর অন্যদিকে ঐ একই ছবিতে মেখ মুজিবের বাম কান ও বাম পাশের্^র গোভটির একাংশ নষ্ট হয়েগেছে রংয়ের কারণে।

সবচাইতে ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়েছে মানবতার ধারক মাদার তেঁরেসা আর শেখ মুজিবের অঙ্কনকীত ছবিটির। উক্ত ছবিটির মধ্য-নিম্নভাগের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ থেকেই রং উঠে গিয়ে ছবিটি ধাবিত হচ্ছে অনেকটাই বিকৃতির দিকেই। আন্যদিকে, শেখ মুজিব আর শেখ রাসেলের ছবিটি দুদিক থেকে ঘিরে রেখেছে দুটো পানবিড়ির ঢোপ দোকান। তবে, আশ্চর্য হলেও সত্য যে, পিএ স্কুলের সেই দেয়ালে চিত্রগুলো অঙ্কন করার নিমিত্তে পুরো দেয়ালটির প্রতিটি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে করা দেয়াল রং প্রায় অক্ষতই আছে। ছবির পেছনে দেয়ালের রং বলা যায় কিঞ্চিত পরিমাণও নষ্ট হয়নি।

শুধু নষ্ট হয়েছে গর্ব করার মতো ছবিগুলো। এটা কি তবে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক কিংবা অন কোন পন্থায় সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হয়েছে নাকি প্রকৃতির কারণেই নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য অনেকের। যেটাই হোক না কেনো, ছবিগুলো যেহেতু ইতিহাসের সাক্ষি বহন করছে তাই পরবর্তী ও নতুন প্রজন্মের কাছে বিষয়গুলো বাধাহীন ভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টরা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারেন বলেও মন্তব্য অনেকের। গর্বের ছবিগুলোর এম বেহালদশা কাম্য নয় কারো কাছেই বলে মন্তব্য নগরীর সচেতন মহলের।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris