চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত বন্ধের প্রস্তাব
ভয়ংকর পরিস্থিতিতে রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ রোগীই এখন আসছেন সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইবাবগঞ্জ থেকে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট করোনা রোগীর অর্ধেকেরও বেশি এখন চাঁপাইনাববগঞ্জের। ইতোমধ্যে এ জেলায় করোনার ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হয়েছে। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার জরুরি সভা করেছে রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ। হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহী সদর হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও রামেক হাসপাতালে আরো এক হাজার শয্যা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব দু’একদিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার। সম্প্রতি তিনি নিজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ঢাকায় চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে এসেই তিনি এই জরুরি সভা ডাকেন।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্তু এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হাসপাতালে করোনা রোগীর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী জানান, সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি দ্রুত প্রস্তাবনাগুলো চিঠি আকারে পাঠাবেন। এই সভায় হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগর সিনিয়র সহসভাপতি শাহীন আক্তার রেণী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪৬ জন। এর মধ্যে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীই ছিলেন ৭৭ জন। গত শুক্রবার রাতে দুইজন রোগী এই হাসপাতালে মারা গেছেন। আগের দিন হাসপাতালে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩৭ জন। সভায় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন হয়।
এ নিয়ে হাসাপাতালের পরিচালককে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে একটি চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউন করার প্রস্তাব করা হয়। সেখানকার রোগীর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া হাসপাতালে আরও এক হাজার শয্যা বৃদ্ধির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। আর রামেক হাসপাতাল থেকে সাধারণ রোগীদের রাজশাহীর সাবেক সদর হাপসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্ট নেই বলে সেখানে অর্থপেডিকসহ দুইটি সাধারণ ওয়ার্ডের রোগী স্থানান্তর করা হবে।
রামেক হাসপাতালে সেই জায়গা করোনা রোগীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। এতে করোনার শয্যা বাড়বে। রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে এই হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫৭ জন। কিন্তু ঈদের আগে ও পরে থেকেই আবার রোগী বাড়তে শুরু করে। ঈদের আগে ১২ মে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয় ৭৭ জন। ঈদের পর থেকে রোগী বাড়তে শুরু করে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন করে রোগী ভর্তি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগী সবচেয়ে বেশি আসছেন।
গত মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা শিবগঞ্জের রোগী বেশি। সেদিন এই উপজেলার ৩১ জন করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সভা শেষে সংসদ সদস্য ফজলে হোসনে বাদশা বলেন, তিনি সদ্য করোনা থেকে উঠেছেন। এখন অন্যদের বাঁচানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এই হাসপাতালে আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের জন্য একটা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারত থেকে মানুষ পদ্মা ও মহানন্দা নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর মধ্যে মহানন্দা প্রায় শুকিয়ে গেছে। এই দিক দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এখন খুব সহজ। আর শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত পুরোটা সুরক্ষিত নয়। এ ব্যাপারে তারা বিজিবি এবং পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলছেন। আর চাঁপাইনাববগঞ্জে লকডাউনের বিকল্প নেই। সেটা করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া বৈধভাবে যে মানুষগুলো চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত হয়ে দেশে ঢুকছে, তাদের পরীক্ষারও কোনো ব্যবস্থা নেই। এটা উদ্বেগের বিষয়।
