২৩ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

স্বামীর মোটরসাইকেল কেনার টাকা না দেয়ায় মাকে হত্যা!

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২১, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: বিচিত্র দুনিয়া খবর
স্বামীর মোটরসাইকেল কেনার টাকা না দেয়ায় মাকে হত্যা!
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী সোহেল রানা দেশে ফিরলে একটি মোটরসাইকেল উপহার দিতে চেয়েছিলেন ববি খাতুন (২০)। এজন্য মা সেলিনা বেগমের কাছে মোটরসাইকেল কেনার টাকা চান তিনি। কিন্তু মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন মায়ের স্বর্ণালঙ্কারের দিকে চোখ যায় ববির। স্বর্ণালঙ্কার চুরি করতে গেলে বাধা দিলে মাকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যার করেন তিনি। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে নাটোরের গুরুদাসপুরের উত্তর নাড়িবাড়ি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ববিকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন তিনি। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট টিম রাজশাহী থেকে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

গত সোমবার রাতে ঘরটি সিলগালা করে দেয় তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘরটি তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ব্লেড উদ্ধার করে। ববির বরাত দিয়ে সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আখতার জানান, ছয় মাস আগে মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানার সঙ্গে অনলাইনে বিয়ে হয় ববি খাতুনের (২০)। সোহেল রানা ববির দ্বিতীয় স্বামী। বিয়ের পর ববি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।

প্রবাসী স্বামী দেশে ফিরলে ববি তাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য কিছুদিন আগে মা সেলিনা বেগমের কাছে টাকা চান। কিন্তু রাজি না হলে মা-মেয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তিনি আরও জানান, গত রোববার ববি তার দুলাভাই আরিফুল ইসলামের সঙ্গে নাটোরের গুরুদাসপুর যান। মায়ের কাছে পুনরায় মোটরসাইকেলের জন্য টাকা চান। মা আবারও আপত্তি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। চুরি করতে গেলে বাধা দেন প্রতি। কিন্তু মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার নেয়া সহজ ছিল না।

গত সোমবার বিকেলে অসুস্থ মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় মেয়ে ববি। ড্রয়ার খুলে স্বর্ণালঙ্কার বের করতে মায়ের আঁচলে থাকা চাবি নিতে গেলে টের পেয়ে জেগে ওঠেন তিনি। বাধা দিতে গেলে ধ্বস্তাধস্তির একপর্যায়ে সঙ্গে আনা ব্লেড দিয়ে মা সেলিনা বেগমের গলায় পোঁচ দেন ববি। এতে মুহূর্তের মধ্যেই শ্বাসনালী কেটে মৃত্যু হয় সেলিনা বেগমের।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন