দুর্নীতির দায়ে বেতন কমলো গাইবান্ধার সেই পিআইও’র
এফএনএস : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে (শৃঙ্খলা ও অপীল) বিধিমালা-২০১৮ মোতাবেক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থায়ীভাবে লঘু-দণ্ড হিসেবে নুরুন্নবী সরকারের বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ (১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন) নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন পাবেন।
বর্তমানে নুরুন্নবী সরকার রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। গত রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) উপসচিব লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন পিআইও নুরুন্নবী সরকার ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে একইদিনে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও দাফতরিক কাজে বাইরে অবস্থান দেখিয়ে পূর্ণ দিনের দৈনিক ভাতা উত্তোলন করেন।
এমন অভিযোগ এবং সহকর্মীদের সাথে খারাপ আচরণের জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও অপীল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩(খ) ও (ঘ) ধারামতে অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং ০৫/২০২০ইং। উল্লেখিত অভিযোগের কারণে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর হতে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগনামা গঠন করে তার বিবরণীসহ প্রেরণ করা হলে তিনি গত ১৫ অক্টোবর অভিযোগনামার জবাব দাখিল করেন। এরপর অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য অনুসন্ধানের জন্য অধিদপ্তরের পরিচালক (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) এসএম এনামুল কবির যুগ্মসচিবকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় অফিস আদেশে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু পিআইও নুরুন্নবী সরকারকে গুরুদণ্ড দেয়ার সিন্ধান্ত নিয়ে চলতি বছরের ১০ জানুযারি ২য় কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়। সর্বশেষ তিনি গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১২ গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে আমলী আদালত (কোতোয়ালী) রংপুরে পৃথক দুটি মানহানির মামলা করেন।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রংপুরের পুলিশ পরির্দশক (নিরস্ত্র) মো. সাইফুল ইসলাম। সম্প্রতি আদালতে মামলার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিবাদী গণমাধ্যকর্মীরা।
