পবায় ইয়াবা সেবনের দায়ে দুই তরুণের ছয় মাসের কারাদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুই তরুণকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে একশো টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটায় এয়ারপোর্ট থানাধীন মহানন্দখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন গোদাগাড়ী উপজেলার ঋষিকুল এলাকার ইনসানের ছেলে হৃদয় (২১) ও একই এলাকার সেলিমের ছেলে ইমন (২১)। ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, এয়ারপোর্ট থানার একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে দুই তরুণকে ইয়াবা সেবনের সময় আটক করে। আটকের সময় তাঁদের কাছ থেকে ছয়টি করে মোট ১২টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁরা তাঁদের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে।
জব্দ করা ইয়াবা সম্পর্কে ইউএনও বলেন, উদ্ধার করা ১২টি ইয়াবার মধ্যে দুইটি আসামিরা ইতিমধ্যে সেবন করেছিলেন। অবশিষ্ট ১০টির মধ্যে একটি ট্যাবলেট মামলার আলামত হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। বাকি নয়টি ইয়াবা উপস্থিত সবার সামনে হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে মাদকগুলো যাতে পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ না পায় এবং পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে পবা উপজেলায় নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকবিরোধী এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মাদক অপরাধের জন্য বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
ইউএনও তরুণদের মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার সহযোগিতায় আগামী প্রজন্মের জন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাদকের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে থানা-পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্যও তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এয়ারপোর্ট থানার এসআই মো. মহিউদ্দিন এবং পুলিশ সদস্য শামীম রেজা ও নয়ন কুমার উপস্থিত ছিলেন।
