১৯ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

মান্দায় শতবর্ষী বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
মান্দায় শতবর্ষী বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় ৮৫ নম্বর কশব মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। শত বছরের পুরোনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনটি এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য যেন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল ও টিনের ছাউনিতে তৈরি হয়েছে একাধিক বড় ফাটল। দেয়াল থেকে খসে পড়ছে প্লাস্টার, অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে গভীর চিড়। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা দিন দিন আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে পরিবেশেই প্রতিদিন প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে যার মধ্যে চারজন ট্যালেন্টপুলে এবং একজন সাধারণ গ্রেডে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে আটজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন। তবে তীব্র অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কাটছেই না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরায় সবসময় একটা অজানা ভয় ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হয়। দ্রুত এই ভবন সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘৮৫ নম্বর কশব মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ এই বিষয়ে যোগাযোগ করেননি। তবে মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে এডিপির অর্থায়নে ক্লাসরুম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) মাধ্যমে আবেদন জমা দেয়, তবে তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুততম সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা বড় ধরনের সংস্কারের জোর দাবি তুলেছেন তারা।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন