১৮ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi
শিরোনাম
সমাজের সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রীমান্দায় এইচবিবি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ৬ মাসেই ধ্বসরাজশাহী থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনাবাংলাদেশ-চীনের যৌথ সহযোগিতায় রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফিরে আসবে : বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীকাগজে ১০ হাজার দিনমজুর, পাড়ে শুধুই ‘ভেকু’গোদাগাড়ীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুদুর্গাপুরে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ ইউএনও’রপ্রশাসকের উদ্যোগে রাসিকে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েট শিক্ষার্থীরা

মান্দায় এইচবিবি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ৬ মাসেই ধ্বস

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
মান্দায় এইচবিবি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ৬ মাসেই ধ্বস
বিজ্ঞাপন

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে নির্মিত হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) কাজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ ধস। নিম্নমানের ইট ব্যবহার, প্রয়োজনীয় গার্ডওয়াল না দেওয়া এবং প্রাক্কলনের অর্ধেকেরও কম কাজ সম্পন্ন করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মূল ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদারের সমন্বয়ে এই চরম দুর্নীতি হলেও, উপজেলা প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাব ও উদাসীনতাকেই এর জন্য সরাসরি দায়ী করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
নির্মাণকাজ চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে কোনো শক্ত নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যা খুশি তা-ই করে সরকারি টাকা লোপাট করার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উত্তরশ্রীরামপুর গ্রামে ওয়াহেদের মোড়ের পশ্চিম পার্শ্বে এবং গণেশপুর গ্রামের কারিগরপাড়া এলাকায় বেশকিছু স্থানে ধসে পড়ায় স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণেশপুর ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থানের ইট উঁচু-নিচু হয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ইটের ফাঁক থেকে মাটি ধুয়ে মুছে একাকার হয়ে গেছে। রাস্তার পাশে গভীর পুকুর থাকলেও দেওয়া হয়নি কোনো প্রতিরক্ষামূলক গার্ডওয়াল। কাজের সময় উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীরা যদি মাঠ পরিদর্শনে আসতেন, তবে ঠিকাদার এভাবে সিডিউল ভেঙে পার পেতেন না। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই কেটি কোটি টাকায় নির্মিত এসব রাস্তাগুলোর বেহাল দশা।
প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, গণেশপুর ইউনিয়নের ছাত্তারের বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজীর বাড়ি এবং শ্রীরামপুর মালেক মুহুরীর বাড়ি থেকে ওয়াহেদের মোড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কথা ছিল। তবে বাস্তবে মিলছে ভিন্ন চিত্র। ছাত্তারের বাড়ি থেকে কারিগরপাড়া পর্যন্ত অর্ধেকেরও কম দূরত্বে কাজ শেষ করে সটকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে সেখান থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজীর বাড়ি এখনো প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও মিলেছে কাজ শেষের অজুহাত।
অভিযোগের ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়; কারিগরপাড়ার সোহরাবের দোকান থেকে আতোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত আগের এইচবিবি সড়কের পুরোনো সরকারি ইট গোপনে তুলে নিয়ে যান ঠিকাদারের লোকজন। পরবর্তীতে কারিগরপাড়া তিন মাথার মোড় পর্যন্ত সড়ক খুঁড়ে সেই মাটি দিয়েই তড়িঘড়ি ভরাট করে কেটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে ‘ওয়াহেদের মোড় থেকে মালেক মুহুরীর বাড়ি’ পর্যন্ত রাস্তার বিষয়ে নথিপত্রে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল নেই; আর সেকারণে প্রশাসনের অসচ্ছতা ও যোগসাজশের দিকেই আঙুল তুলছেন তারা।
নির্মাণকাজের সময় বেপরোয়া ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কারিগরপাড়া মসজিদ সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভেঙে যায়। পরে সেখানে অত্যন্ত সরু ও মানহীন একটি কালভার্ট নির্মাণ করায় স্থানীয় দুটি বৃহৎ বিলের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে এমনিতেই অবহেলিত। ঐতিহ্যবাহী সতীহাটের মতো বড় পশুর হাট, একাধিক স্কুল, কলেজ ও ব্যাংকিং সুবিধা থাকলেও শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দৈন্যদশায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।
ভূক্তভোগী পথচারী হোসেন আলী ও মিঠুসহ অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, “সরকার তো কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিল, কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতি আর অসাধু ঠিকাদারের লুটপাটের কারণে আমাদের দুর্ভোগ বিন্দুমাত্র কমলো না। কাজের সময় প্রশাসন যদি শক্তভাবে তদারকি করতো, তবে ঠিকাদার এমন দুর্নীতি করার সাহস পেত না।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ ৫২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে উপজেলার পরানপুর, গণেশপুর ও কুসুম্বা ইউনিয়নে ২.৫ কিলোমিটার সড়ক এইচবিবিকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তৎকালীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী এবং পিআইও আরিফুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও, নির্মাণের সময় তেমন কোনো তদারকি করা হয়নি। এখন ধস নামায় দায় এড়াতে লোকদেখানো পরিদর্শনে নামতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নথিপত্রে কাজটির কার্যাদেশ পায় ‘মেসার্স তাসকিন ট্রেডার্স’ (নিতপুর, পোরশা) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে সাব-কন্ট্রাক্টে অন্য ঠিকাদারের হাতে কাজ হস্তান্তর করায় এই ভয়াবহ লুটপাট ও অনিয়মের বিস্তার ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন