রুয়েট সীমানার অভ্যন্তরে পাবলিক টয়লেট অপসারণ চান শিক্ষার্থীরা
শোয়েব বিন জামান, রুয়েট : বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সীমানার অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রুয়েটের জমিতে অবৈধভাবে এ স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে টয়লেটটির পাশেই একটি একাডেমিক (পুরকৌশল অনুষদ) ভবন নির্মাণাধীন থাকায় এটি শিক্ষা পরিবেশ, স্বাস্থ্যবিধি ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ স্থাপনাটি রুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক সীমানার মধ্যে স্থাপিত। এটি শুধু একাডেমিক পরিবেশের ক্ষতি করছে না বরং এটি রুয়েটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের উপর অবৈধ দখলের এক বিরল নজির। পাশাপাশি এটি তৎকালীন আওয়ামীলীগ কর্মীদের অবৈধ আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, জনসাধারণের সুবিধার্থে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রতিষ্ঠানিক এলাকার ভেতরে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল জানান,“বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রুয়েটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে এটি ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও নান্দনিকতার পরিপন্থী এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও নির্মাণাধীন ১০তলা ফ্যাকাল্টি ভবনের একেবারে পাশেই পাবলিক টয়লেট; শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্যই এটি বিব্রতকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এমন অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ ও জমি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করি।” শিক্ষার্থীরা রুয়েটের স্বার্থ রক্ষায় তৎকালীন প্রশাসনের এমন উদাসীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের প্রতি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন। রুয়েটের মালিকানাধীন জমির প্রতিটি ইঞ্চি রুয়েট পরিবারের অধিকার এবং এখানে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখা যাবে না মর্মে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে মন্তব্য করেছেন।
প্রশাসনের নিকট রুয়েট সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণের দাবি জানিয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন,“জনসাধারণের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা যেতে পারে, তবে সেটি কখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে নয়। রুয়েটের জমি দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার। পাশাপাশি সীমানা ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোও চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।”
জনসাধারণের প্রয়োজনে উপযুক্ত ও বিকল্প স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণেরও পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি দখল ও সেখানে এমন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে রীতিমত অন্যায় করেছেন বিগত আওয়ামী প্রশাসন, এমনটাই মন্তব্য শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও রুয়েটের মেইন গেটের ভ্রাম্যমাণ দোকান ও প্রাচীর সংলগ্ন যত্রতত্র গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা। দেশের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও নান্দনিকতায় এসব অবৈধ স্থাপনা ও দোকান অপসারণে প্রশাসনের উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের মতে, রুয়েট দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সংরক্ষণ ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও বেশি সচেতন হওয়া সবার সমান দায়িত্ব। তাদের প্রত্যাশা, আওয়ামী আমলের এ ধরনের অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা হবে।
