১৯ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

ছাঁটাই নিয়ে রাজশাহী জিপিও’র দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারিদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
ছাঁটাই নিয়ে রাজশাহী জিপিও’র দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারিদের মানববন্ধন
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : গত ১৬ আগস্ট রাজশাহী জিপিও এবং আওতাধীন সাব-পোস্ট অফিসে কর্মরত ১৩ জন দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীকে (পোস্টাল অপারেটর, প্যাকার ও নৈশপ্রহরী পদের) একতরফাভাবে পূর্ববর্তী কোনপ্রকার নোটিশ প্রদান ব্যতীরেকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রেক্ষিতে, বুধবার (১৯ আগস্ট) জিপিও কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগীসহ দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারি সমিতির বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মী ও রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরতরা উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
নয়জন পোস্টাল অপারেটর, দুইজন প্যাকার ও দুইজন নৈশপ্রহরীকে ছাটাই করা হয়েছে। ছাটাইকৃতরা কর্মরত ছিলেন জিপিও কার্যালয়, ঘোড়ামার প্রধান ডাকঘর ও রাজশাহী কোর্ট টাউন সাব-পোস্ট ও পদ্মা আবাসিক সাব-পোস্ট অফিসে। “কেউ খাবে কেউ খাবেনা, তা হবেনা তা হবেনা” শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে জিপিও চত্বর। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি না মানলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
দৈনিক মজুরীভিত্তি কর্মচারি সমিতির রাজশাহী সড়ক ও জনপথের কেন্দ্রীয় সংসদের জসিম উদ্দীন বলেন, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই কর্মচুত্যির বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এটি আইন বহির্ভুত কাজ। যাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে পুণঃবহালের দাবি জানান তিনি। নিরীহ কর্মচারীদের পেটে লাথি মারা হলে আমরা পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি। উক্ত সমিতির পাবনা জেলার আহ্বায়ক নার্গিস বলেন, আমরা বৈষম্য চাইনা। বিনা কারনে কোন নোটিশবিহীন চাকরিচুত্য করাটা আইনসঙ্গত নয়।
রাজশাহী রেশম বোর্ডের কর্মচারি তাসেন বলেন, একশ্রেণির কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। যাদেরকে ছাটাই করা হয়েছে তাদের পরিবারের বিষয়টি কুচক্রিমহলের চোখে পরেনা কেনো। বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। যেখানেই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় করা হবে সেখানেই আমরা প্রতিহত করবো। দৈনিক মজুরীভিত্তিক শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবেন না।
ছাটাইকৃত শ্রমিক ও ভিক্টিম পায়েল বলেন, ২৭ জনের মধ্যে ১৩ জনকে ছাটাই করা হয়েছে। আমাদের এই ছাটাইয়ের বিষয়ে কোন প্রকার কারণ দর্শানো হয়নি। একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে অর্থের বিনিময়ে কাউকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে, আর অন্যদেরকে ছাটাই করা হয়েছে। বেতন ভাতার প্রদানের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এখানে। নিয়মানুযায়ী প্রাত্যহিক ভিত্তিতে ৭৫০/- টাকা প্রদানের কথা থাকলেও, ৪৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বেতন দিতো কর্তৃপক্ষ। অবশিষ্ট টাকা কাদের পকেটে যায়, প্রশ্ন ছুড়ে দেয় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারিরা।
মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগ-এর পক্ষ থেকে সিনিয়র পোস্টার মাস্টারকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রীয় সেবাখাতে দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই কর্মচারীদের হঠাৎ কাজচ্যুত করার সিদ্ধান্তটি আইনি, প্রশাসনিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য। আমরা বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং জারিকৃত আদেশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি বলে স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারিরা ।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন