নেসকো কেন, রাজশাহীর কোনো প্রতিষ্ঠানই কোথাও যাবে না : মিনু
স্টাফ রিপোর্টার : নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনা চলার মধ্যেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ‘কোনো ঠিকাদারের কথায় নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় যাবে না’। বুধবার (০৫ আগস্ট) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভূমিমন্ত্রী বলেন, “এখানে কয়েকজন চাকরি করেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফ্যাসিস্টদের দালাল। তারা বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কে কী বলল, কোনো কন্ট্রাক্টর কী বলল, তাতে কিছু আসে যায় না। দিস ইজ রাজশাহী।” তিনি আরও বলেন, “রাজশাহীর প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতেই থাকবে। কোনো কন্ট্রাক্টর কোথায় কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। নেসকো কেন, রাজশাহীর কোনো প্রতিষ্ঠানই কোথাও যাবে না।” নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মিনু বলেন, রাজশাহীর স্বার্থ রক্ষায় তিনি আপসহীন। ১৯৯২ সালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “রাজশাহীর সব প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতেই থাকবে। রাজশাহী হবে ফার্স্ট। আমার কাছে মন্ত্রিত্ব, এমপি বা মেয়রের পদ বড় নয়। এই মাটিতেই আমার জন্ম, এই মাটিতেই আমার মৃত্যু হবে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। তাই কোনো কন্ট্রাক্টর কোথায় কী বলল, তাতে কিছু আসে যায় না।” অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
সম্প্রতি নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়ার সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম এক অনুষ্ঠানে বলেন, “রাজশাহীবাসী সারাদিন চিৎকার করে। হোক না বগুড়ায় হেড অফিস, আপনারা জোনাল অফিস নেন।” তাঁর এ বক্তব্যের পর রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর আগে নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবিতে মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার দেন। পাশাপাশি বগুড়াকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতেও সেখানে বিভিন্ন সময় সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
