২ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর-এর সাক্ষাৎ

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর-এর সাক্ষাৎ
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (০১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় সার্জিও গোর বাংলাদেশকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের দৃঢ় আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, এই খাতে এবং ভবিষ্যতে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগে অংশীদার হতে পারে। প্যাক্স সিলিকা ইনিশিয়েটিভ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর জন্য বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে গত ডিসেম্বরে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক-সুরক্ষা জোট। আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট জ্যাকব হেলবার্গের নেতৃত্বে এটি প্রযুক্তিগত নির্ভরতা হ্রাস করার জন্য মিত্র দেশগুলোকে একত্রিত করে। বৈঠকে সার্জিও গোর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই আস্থার ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ভ্রমণ নির্দেশিকায় ইতিবাচক সংশোধন করেছে। এটি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ দূত গত শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন থেকে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রদত্ত আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং তাদের সমর্থনের জন্য মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পণ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বৃহত্তর মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যের গুদামঘর তৈরিতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রগুলতে বিনিয়োগ একটি শক্তিশালী এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন– প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন; ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে, সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সার্জিও গোর বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিনিয়োগকারী একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু করতে পারি। সার্জিও গোর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অফিসে একটি খুব ভালো বৈঠক শেষ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়। আমরা যেমনটি আলোচনা করেছি, আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা দেখেছি এর মধ্যে, কিছু ইতোমধ্যে, এই সপ্তাহে দেখেছি। আমরা বাংলাদেশের জন্য আমাদের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি কমিয়ে দিয়েছি, যাতে মানুষকে পর্যটক হিসেবে এবং বিনিয়োগে আগ্রহী হিসেবে এখানে আসতে উৎসাহিত করা যায়। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলোর একটি প্রতিনিধি দল সফর করতে যাচ্ছে। আমরা যে বার্তাটি নিশ্চিত করতে চাই তা হচ্ছে, আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটা ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিতই হোক না কেন বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে অনেক কিছু করতে পারে। আমরা এই সম্পর্ক তৈরি করতে এবং পরবর্তী স্তরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন