২৯ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে’

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead
‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে’
বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু কিছু ‘ইরিটেশন’ (অস্বস্তি) রয়েছে। এগুলো নিরসন করা খুবই প্রয়োজন এবং সেই প্রয়োজনীয়তা উভয় পক্ষই উপলব্ধি করে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক ‘রিসেট’ (নতুন করে শুরু) করার বিষয়ে দুই পক্ষই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে গতকাল বুধবার আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছে। এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি। এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে না। সামনে আমাদের যথেষ্ট সময় রয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার বিষয়ে আমরা আগেও বলেছি এবং এ বিষয়ে আমরা দুজনেই একমত। আগামীতে পারস্পরিক স্বার্থকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। আমি সব সময়ই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বলি, এখনও বলছি। সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে আজ (গতকাল বুধবার) দীর্ঘ আলোচনা হয়নি; কেবল দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়েই কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে বিষয়টি বলেছেন, আমরা সেটি পর্যালোচনা করছি। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আপনাদের জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে একাধিক আমন্ত্রণ রয়েছে। সবকিছুই তার সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন। তাই সব বিষয় সম্মিলিতভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আজ (গতকাল বুধবার) আমরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করিনি। কিছু কিছু অস্বস্তির বিষয় রয়েছে, যা তিনি জানেন, আমিও জানি। এগুলো নিরসন করা প্রয়োজন এবং সে প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করেন। কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। বিশেষ ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সামনে আরও সুযোগ রয়েছে। আগামীকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার সঙ্গে ইতোমধ্যে ম্যানিলায় আমার সাক্ষাৎ, বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছি। আপনারা জানেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তারাও এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায়। তিনি শুধু ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিও। এই অঞ্চলে এটি তার প্রথম সফর। দক্ষিণ এশিয়া তার দায়িত্বের আওতায় থাকায় বাংলাদেশও সেই সফরের অংশ। আমরা মনে করছি, এটি একটি অনুসন্ধানমূলক (এক্সপ্লোরেটরি) সফর। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা যে বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছি, তার জন্য সব আন্তর্জাতিক অংশীদারকে ধন্যবাদ জানাই। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি। তিনি বলেন, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন বলে আমরা আশা করছি। পারস্পরিক সম্পর্কের সব গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে তিনি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কাল সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার বৈঠক হবে। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হবে। ম্যানিলায় আমাদের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগেই বলেছি, এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে আমাদের কাছে উপস্থাপন করেছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেছেন। বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে এবার আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়েই আমরা আলোচনা করব। তিনি আরও বলেন, অজিত দোভাল সাহেবের সঙ্গে ম্যানিলায় আমার দেখা হয়নি, তবে জয়শঙ্কর সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি জানতেন যে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার বৈঠক রয়েছে। আমরা দুজনেই আশা প্রকাশ করেছি, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষই কাজ করবে। দীনেশ ত্রিবেদীর এই বৈঠকটি শুধুই আনুষ্ঠানিক ছিল কি না, কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সফরের ঠিক আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই সাক্ষাৎ কোনো বার্তা বহন করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না, এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি গতকাল (গত মঙ্গলবার) দেশে ফিরেছি। তার সঙ্গে এই বৈঠকটি প্রয়োজন ছিল, তাই যত দ্রুত সম্ভব করেছি। এসব বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছি না।-এফএনএস

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন