স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর সুলতানাবাদ এলাকায় আইন অমান্য ও চুক্তিভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও চুক্তিকারি একপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরএমপি’র বোয়ালিয়া থানা ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ ছাড়াও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজশাহীর আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বিবদমান জায়গাটির উপর একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং: ১১৩/২৬ (বোয়ালিয়া)। মামলার পরবর্তী ধার্যকীত দিন আগামী ০৩-৬-২০২৬ ইং তারিখে। অভিযুক্ত শামসুল ইসলাম গং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের সহোযোগিতায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে জানান অভিযোগকারী ও মামলার বাদী সালাউদ্দিন।
নালিশী তপশীল সম্পত্তির বর্ণনা মতে বোয়ালিয়া থানা ও মৌজার অন্তর্গত জে,এল,নং-৯ মধ্যে-আর.এস খতিয়ান নং: ১০৪৮, আর.এস দাগ নং: ৪৬৪০, হোল্ডিং: ১৪০৯৮, শ্রেনী: বাড়ি। জমির পরিমাণ ৭ শতক (সাত শতক)। এই জমির সকল অংশীদার ও মালিকের মধ্যে সম্পাদন হওয়া পাঁচফিট জায়গা ছেড়ে নিজ নিজ ভবন নির্মাণের জন্য একটি লিখিত অঙ্গিকারনামা ও সম্মতিপত্র সম্পাদন হয়েছে।
থানা ও আরডিএ-তে দেয়া অভিযোগ ও মামলার নথি থেকে জানাগেছে, নালিশী তপশীল সম্পত্তির মূল মালিকগণ অর্থাৎ দরখাস্তকারী ও প্রতিপক্ষের (অভিযুক্ত ব্যক্তি) পূর্বপুরুষগণ একটি লিখিত সম্মতিপত্রের মাধ্যমে উক্ত জমি ওয়ারিশগণের ভোগ দখলের সুবিধার্থে ৫ ফিট রাস্তা ছেড়ে রাখা আছে যেটা সকলেই সমভাবে ভোগ দখল করতে পারবে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ তাদের নিজ অংশে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য উক্ত নালিশী ৫ ফিট ছাড়া রাস্তা জবর দখলকরে উক্ত স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। ৫ ফিট রাস্তাটি ছেড়ে বহুতল ভবন নির্মানের জন্য বলা হলে অভিযুক্ত শামসুল ইসলাম ক্ষুদ্ধ হয়ে মামলার বাদী সালাউদ্দিনের উপর চড়াও হয় । ৫ ফিট ছাড়া রাস্তা জবর দখল করে ভবন নির্মাণ অব্যহত রাখলে অন্যান্য ওয়ারিশগণের চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে। এই অবৈধ নির্মাণ কাজে কেউ বাধা প্রদান করলে খুন জখমের মত ঘটনা ঘটাইবে মর্মে হুমকি অভিযুক্ত শামসুল হুমকি ধামকি প্রদান করছে বলে জানান সালাউদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও অথোরাইজড অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, চার-পাঁচ ফিট রাস্তা সংলগ্ন ছয় তলা ভবন নির্মাণের কোন ধরনের অনুমতি আরডিএ দেয়নি। এটা হবারও কথা না। আমরা সরেজমিন পরিদর্শন সাপেক্ষে যথাযথা ব্যবস্থা নেবো। জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, শিরোইল পুলিশ ফাড়ির একজন এসআইকে সরেজমিন তদন্তর জন্য পাঠানো হয়েছে। এসআই আল মামুন বলেন, আমি নির্মাণাধীন ভবনটিতে গিয়েছিলাম। সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে যেনো কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেবিষয়ে উভয়পক্ষকে অবগত করেছি। নালিশী জায়গাটির উপর কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।