স্টাফ রির্পোটার
কীটনাশক ব্যবসায়ীর ভূল পরামর্শে ঔষুধ ব্যবহার করে পথে বসলেন পানচাষী সেলিম হোসেন। পানচাষী সেলিম হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গনিপুর গ্রামে। তিনি পান বরজে কীটনাশক স্প্রে করার পর পরই তার পানের গাছ পচে, মরে চৌচির হয়ে গেছে। কীটনাশক ব্যবসায়ীর পরামর্শে ঔষুধ ব্যবহারের কারনে তার ৬/৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় তিনি সুবিচারের দাবী জানিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসারের দপ্তরের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের পানচাষী সেলিম হোসেন একই গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে সোয়া এক বিঘা জমি লীজ নিয়ে পান চাষ শুরু কেরন। পান চাষের পরপরই তার ভাগ্য খোলে যায়। তিনি পান গাছে কীটনাশক দেয়ার জন্য গত ২ আগষ্ট মাদারীগঞ্জ বাজারের শহিদ সরদারের দোকানে যান। কীটনাশক ব্যবসায়ী শহিদ সরদার ও খোরশেদ আলম সরদারের পরামর্শে তার দোকান থেকে পাঁচ প্রকারের কীটনাশক ক্রয় করেন।
কীটনাশক ক্রয় করার পর তারা পানচাষী সেলিম হোসেনকে ব্যবহারের নিয়মকানুন বলে দেন। সেই মোতাবেক সেলিম হোসেন বাড়িতে গিয়ে তাদের পরামর্শে কীটনাশক গুলো একই সঙ্গে পান বরজে স্প্রে করেন। পানবরজে কীটনাশক স্প্রে করার ৮/১০ ঘন্টা পরে পান গাছের গুড়া পঁচেমরতে শুরু করেন। পান গাছ মরার বিষয়টি সাথে সাথে সেলিম হোসেন কীটনাশক ব্যবসায়ী শহিদ সরদারকে জানালে তিনি কোন কর্ণপাত করেন নাই। পানচাষী সেলিম হোসেন ঘটনাটি গনিপুর ইউনিয়নের দায়ীত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস)কে অবহিত করলে তিনি দ্রুত পানবরজ পরিদর্শনে যান এবং পানবরজের অবস্থা দেখে কীটনাশক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনকে কিছু ক্ষতিপূরুন দেয়ার আহবান জানান।
কীটনাশক ব্যবসায়ী শহিদ সরদার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কথা কর্ণপাত না করে তিনি নিজের মত থেমে যান। পানচাষী সেলিম হোসেন কোন পথ না পেয়ে তিনি বুধবার (৬ আগষ্ট) উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর সুবিচারের জন্য আবেদন করেন। সেলিম হোসেন বলেন, কীটনাশক ব্যবসায়ী শহিদ সরদারের ভূল পরামর্শে ঔষুধ ব্যবহার করে আমার ৬/৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। কৃষি অফিসার সু-বিচার করতে ব্যর্থ হলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে কীটনাশক ব্যবসায়ী শহিদ সরদার ঔষুধ বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি পাইকারী ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সেলিম হোসেন কোথয়া থেকে ঔষুধ ক্রয় করেছেন তা তিনি জানেন বলে জানিয়েছেন। তবে তার অন্য একটি কীটনাশকের দোকান রয়েছে সে দোকানে তার ছেলে বসে। সেখান থেকে সে ঔষুধ ক্রয় করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। অপরদিকে ঘটনাটি জানতে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক ব্যবসায়ীকে ডাকা হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পানচাষী সেলিম হোসেনের সাথে ক্ষতিপূরুন দিয়ে আপোষ হবেন বলে জানিয়েছেন। আপোষ না হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।