শনিবার

২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

রাজশাহীর বাজারে আগামজাতের তরমুজ, ক্রেতা কম দাম বেশি

Paris
Update : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাজারে দেখা মিলছে তরমুজের। সুমিষ্ট ও রসালো ফল হিসেবে সকলের কাছেই তরমুজের রয়েছে আলাদা চাহিদা। বিশেষ করে গরমকালে ও রোজার মাসে এই রসালো ফলটির চাহিদা যেনো আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু স্বাদ আর সাধ্যের মধ্যে প্রাচীরতুল্য একটি বাধা হয়ে আবির্ভূত হয় উচ্চমূল্য। উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য তরমুজ কেনাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। রোজাকে ঘিরে তরমুজের দাম আরো বেশি বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ এখনো তেমন বাজারে আসেনি।
নগরের বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থিত মায়ের দোয়া আড়তের আড়তদার আমজাদ আলী একতা ফল ভান্ডারে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মচারি বলেন, প্রতিবছর রাজশাহীতে আগামজাতের তরমুজ আসে পটুয়াখালীর ধানখালী ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রাম থেকে। গেলবারের চাইতে আগামজাতের তরমুজের ক্রেতা এবার অনেক কম। পাইকারি দর সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে দাবি আড়তদারদের। কিন্তু খুচরা বাজারে পড়েনি সেই প্রতিফলন। আড়তদাররা ভালমানের তরমুজ বিক্রি করছেন ৪৫ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে, আকারে ছোট ও কিছুটা নিম্নমানের তরমুজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজিতে। বাজারে চাহিদা ও ক্রেতা সমাগম কম থাকার কারণে বেশি পরিমাণ তরমুজ আনতে ভয় পাচ্ছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে পটুয়াখালী থেকে ট্রাক বোঝাই করে তরমুজ নিয়ে আসা ট্রাক চালক ও সরবরাহকারী হিরণ হাওলাদার বলেন, রাস্তাতে চাঁদাবাজির দৌড়াৎ নেতাই কম নয়; সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পরিবহন খরচ বেড়েছে কয়েক হাজার টাকা। পটুয়াখালী থেকে রাজশাহীতে ট্রাক ভাড়া পড়ে ত্রিশ হাজার টাকা। এক ট্রাকে প্রায় তিনশ মণ তরমুজ রাজশাহীতে নিয়ে আসলাম বলে জানান তিনি। অন্যান্যবারের চাইতে এবার তরমুজের আগাম ফলন কিছুটা কম বলেও জানান এই সরবরাহকারি। রোজার মধ্যে তরমুজের দাম খুব একটা হ্রাস পাবার আশা নেই বলেও জানান তিনি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পনের রোজার আগে দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই। পনের কিংবা বিশ রোজার পর থেকে তরমুজের দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, রাজশাহী নগরীর শালবাগান, লক্ষিপুর, সাহেব বাজার, সাগড়পাড়া বাজার, শিরোইল কাঁচা বাজার, তেড়খাদিয়া ও বিনোদপুর বাজার ঘুরে দেখাগেছে, প্রায় প্রতিটি খুচরা বাজারে ভালমানের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে, ছোট ও নিম্নমানের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি ও খুচরা বাজারের চিত্রনুযায়ী মধ্যম ও বড় আকারের ভালমানের তরমুজে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজিতে মুনাফা করছেন ১০-১৫ টাকা। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের হিসেব নিকেষানুযায়ী সাত কেজির একটি তরমুজে খুচরা বিক্রেতারা লাভ করছেন সর্বনিম্ন ৭০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তরমুজ গেল বছরের চাইতে এবার কম আসছে। এছাড়াও বাজারে ক্রেতা ও চাহিদা কম হবার কারণে দামটা একটু বেশি। অপরদিকে, ক্রেতারা বলছেন, খুচরা বাজারে আসা তরমুজের মান খুব একটা ভালনা। মান তেমন একটা ভাল না হলেও দাম সহনীয় পর্যায়ে নেই। প্রতি কেজি ৪০ টাকা হলে তবুও সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে তরমুজ কেনা মানে উর্দ্ধগতির এই বাজারে বিষয়টি খুব কষ্টসাধ্য। শালবাগান বাজারে আসা ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, বাজারে এ বছরের নতুন তরমুজ দেখে কিনতে আসলাম। তবে দামটা বেশি হওয়ার কারণে আমি কিনতে পারিনি। আর একদিন পরেই শুরু হচ্ছে রমজান মাস, রোজার মধ্যে তরমুজ কিনে খেতে পারব কিনা জানি না। উচ্চমূল্যে যারা তরমুজ কিনছেন তাদের অধিকাংশের অভিযোগ, তরমুজের মান ভাল না। খুব একটা মিষ্টি না। সাত কেজির তরমুজ কত টাকায় কিরলেন প্রশ্নের জবাবে ক্রেতা সোহেল জানান, ৪৫০ টাকায় কিনলাম। বিক্রেতা বলছেন মিষ্টি হবে। কেঁটে টেস্ট করার সাহস পাচ্ছিনা। কারণ মিষ্টি না হলে এতো দাম দিয়ে কেনার পর সেটিতো বিক্রেতা আর ফেরত নেবে না। তবে, তরমুজের বাহিক্য চেহারা খুব একটা ভাল না। খুব অল্প পরিমাণ তরমুজের বাইরের চেহারা কিছুটা ভাল। আর অধিকাংশের বাহিক্য অবস্থা দেখে মানহীন মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য ক্রেতাদের।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris