শাহানুর রহমান রানা
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুন্ডুমালার সাবেক মেয়র গোলম রাব্বানীর প্রার্থীতা ফিরে পাওয়াতে এই আসনের ভোটের সমীকরণ পাল্টে গেল বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে থাকা ওমর ফারুক চৌধুরীর সবচেয়ে কঠিণ প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাব্বানির নামই শোনা যাচ্ছে এই আসনের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের মুখ থেকে। নির্বাচনী এলাকার লোকজন বলছেন, গোলাম রাব্বানী ফিরে আসায় ফারুক চৌধুরীকে এখন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। গোলাম রাব্বানী না থাকলে এই আসনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো না।
রাজনীতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চা-চক্রের এক আলাপচারিতায় জানতে চাইলে রাব্বানী বলেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে রাজনীতি করছি। বাবা-দাদাসহ তিন পুরুষের রাজনীতির সময়কাল প্রায় একশ বছর। বাবা-দাদার কাছ থেকে শিক্ষা-দিক্ষা পেয়ে সেই কিশোরকাল থেকে আজ অবদি সর্বদাই রুট লেভেলে (তৃণমূল পর্যায়ে) রাজনীতি করে আসছি। বাবা-দাদার সাথে যেমনটা কৃষিকাজে সময় দিয়েছি, ঠিক তেমনিভাবে মিশেছি গ্রামের সকল শ্রেণি ও পেশাজীবি মানুষের সাথে। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি চাষাবাদ করে আর ব্যবসা বাণিজ্য করে যে উপার্জন হয়েছে সেটির একাংশ সর্বদাই আলাদাভাবে রাখতাম গ্রামের অসহায় ও বিপদগ্রস্থ মানুষদের সেবার অভিপ্রায়ে। এছাড়াও নিজের জমি বিক্রি করে স্থানীয়ভাবে রাজনীতি করছি বিগত ৪৫ বছর ধরে। রাজনীতি করছি গ্রাম ও মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনের জন্য। এটাই হওয়া উচিত একজন জনপ্রতিনিধির বলে মন্তব্য গোলাম রাব্বানীর।
দাদা মরহুম কবির উদ্দিন ছিলেন গ্রামের পঞ্চায়েত। জীবিতবস্তায় পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় ৩৩ বছর। বাবা হাজী মোহাম্মদ আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই। তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বাবা মোহাম্মদ আলী সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বহুবছর। ছাত্রলীগ, যুবলীগ অতঃপর আওয়ামী লীগের রাজনীতির পাশাপাশি মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র হিসেবে দুই মেয়াদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম রাব্বানী। তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বাবা মোহাম্মদ আলীর মতোই সুনামের সাথে দ্বিতীয় মেয়াদেও নিজ দায়িত্ব পালন করছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী বলে দাবী করেন রাব্বানী।
এবারের নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে কতটা আশাবাদি জানতে চাইলে গোলাম রাব্বানী বলেন, মাটি আর মানুষের সাথে আমরা বংশপরমপরায় ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। তার উপর পারিবারিকভাবে স্বচ্ছ ও পরোপকারি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা দীর্ঘ সময়ের। তাই আমি নির্দ্ধিধায় বলতেই আমি, আমি সাধারণ মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হবো ইনশাল্লাহ।
রাব্বানী বলেন, মাটি আর মানুষের সাথে আমার আত্মার একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। যেটা আমি পেয়েছি বংশগতভাবেই। বাপ-দাদার কাছ থেকে শিখেছি, মাটি আর মানুষের সাথে নিঃস্বার্থ ভালবাসা তৈরি করতে পারলে সেই ভালবাসার প্রাপ্তিটা মানষিক প্রশান্তি ঘটায় অনেক বেশি। তাই আমি যদি এবার নির্বাচিত হতে পারি তাহলে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের গতিধারাকে আরো বেশি তরান্বিত করতে প্রথমেই এই অঞ্চলের কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদনে অগ্রগ্রামী ভূমিকা রেখে কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমানকে আরো বেশি উর্দ্ধমূখি করতে চাই। তানোর-গোদাগাড়ী অঞ্চলের কৃষিখাতে ব্যপক উন্নয়ন ঘটাতে পারলে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে, এই অঞ্চলটি পরিণত হবে দেশের একটি আইকন হিসেবে। কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো বেশি উন্নয়ন ঘটাতে পারলে তানোর-গোদাগাড়ীর বেকারত্ব নিমিষেই হ্রাস পাবে বলে মন্তব্য কাচি প্রতীক নিয়ে এবারের নির্বাচন মাঠে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন গোলাম রাব্বানী। ভোটে কে জিতবে আর কে হারবে সেটা মাঠ জরিপের মাধ্যমে নিশ্চিত করে বলাটা প্রায় অসম্ভব হলেও, এটা বলতে কোন দোষ নেই যে, ভোটাররা সর্বদাই প্রতীকের পাশাপাশি ‘ভালবাসার মানুষটিকেও ভোট দেয়। তাই আমি অবশ্যই আশাবাদী।
উল্লেখ্য, রাজশাহী-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামসুদ্দিন মন্ডল, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, এনপিপির নুরুন্নেসা, বিএনএমের প্রার্থী শামসুজ্জোহা বাবু, তৃণমূল বিএনপির জামাল খান দুদু, বিএনএফের আল-সাআদ ও মুক্তিজোটের বশির আহমেদ প্রার্থী হয়েছেন।