স্টাফ রিপোর্টার, লালপুর
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির চার জন নেতা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শহীদ মমতাজ উদ্দিন এর ছোট ভাই নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু। অপরদিকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল। তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আ,স,ম মাহামুদুল হক মুকুল সহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জয়। অন্যদিকে শহীদ মমতাজ উদ্দিন এর ছেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সাগর নিজেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এসব নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামীলীগ সহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নানা ঘটনায় লালপুরের রাজনীতিতে বিভেদ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ বিভেদ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটারদের ভোটে এমপি হয়ে শহিদুল ইসলাম বকুল ৫ বছর আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ না রাখা,নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া,ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করা,কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতিসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে তার নিজ বাড়ীতে কান্নায় ভেঙে পড়া নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে। মতামত, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জয় বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল হলো আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত নৌকার প্রার্থী। আমার বিশ্বাস আওয়ামীলীগের সবাই নৌকার পক্ষে থাকবেন। এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সাগর বলেন, নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি, তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পেলে সেই অনুযায়ী কাজ করব। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু বলেন, এমপি বকুল সাহেব ৫ বছর আওয়ামীলীগকে ড্যামকেয়ার মনে করে সকল সুযোগ-সুবিধা বিএনপিকে দিয়েছেন এবং স্থানীয় সকল নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হয়ে তার উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন