চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে জমি রেজিস্ট্রি করতে যাওয়া এক নারীকে সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে অফিসের সামনেই বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় ওই নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নারীকে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে নাচোল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। আহত নারী সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের আহসান আলীর স্ত্রী মোসা. মুসলেমা খাতুন (৪৩)। উদ্ধারের পর এ ঘটনায় আহত নারী নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে রাতে নাচোল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন আহত মুসলেমা খাতুন।
আহত নারী, তার পরিবার, সাব-রেজিস্টার ও থানা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক লোন বাবদ নাচোল মৌজায় থাকা জমি রেজিস্ট্রি দিতে যান মুসলেমা খাতুন। এসময় নাচোলের স্থানীয় কয়েকজন যুবক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে টেনেহিঁচড়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে ৭-৮ জন মিলে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এসময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের পাশাপাশি পরনের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে বিবস্ত্র করে তারা।
মারধরের শিকার নারী মুসলেমা খাতুন বলেন, আমার নামে থাকা নাচোল উপজেলার শ্রীরাম এলাকায় এসিল্যান্ড অফিস সংলগ্ন একটি জমিসহ দোকানঘর রয়েছে৷ যা জনতা ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে বন্ধক ছিল। পরবর্তীতে ঋণখেলাপী হওয়ার কারনে ব্যাংকের নির্দেশে বিক্রি করছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাচোল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমিসহ ঘরটি রেজিস্ট্রি দিতে যায়৷ পরে সাব-রেজিস্ট্রির ঘর থেকে টেনেহিচড়ে বের করে অফিসের সামনে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি আমার গলায় থাকা এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা।
আহত মুসলেমা খাতুনের স্বামী আহসান আলী জানান, ঘটনাটি এতোটাই নির্মম, যেন বর্বরতার যুগ। জমি রেজিস্ট্রি দিতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে সাব-রেজিস্টারের সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনে এনে বাইরে মারধর করেছে। এসময় তার কাছে থাকা ১২ লাখ টাকা ও গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় নাচোল উপজেলার মোমিনপাড়া এলাকার মৃত লোকমানের ছেলে মো. ওবাইদুর (৪০)। তার নেতৃত্বে আরও ৬-৭ জন লোক কিল-ঘুষি মারধর করে। পরে সাব-রেজিস্টার পুলিশকে ফোন দিলে তারা এসে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত মো. ওবাইদুর মুঠোফোনে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই নারীর গায়ে হাত দেয়নি, তবে হাত ধরে টেনে বাইরে এনেছিলাম কথা বলার জন্য। এমনকি মুসলেমার হাতে থাকা টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।
এবিষয়ে নাচোল সাব-রেজিস্টার জহিরুল ইসলাম জানান, ওই নারী একটি বন্ধকী জমি রেজিস্ট্রি দিতে এসেছিল। এসময় আমার কক্ষে কিছু লোক টাকা পাবেন দাবি করে ওই নারীর সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়ায়। পরে তাদেরকে অফিস কক্ষে এসব না করার জন্য বলা হয়। পরে শুনেছি, বাইরে গিয়ে ওই নারীকে নাকি শারীরিকভাবে মারধর করা হয়েছে। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে রাতে থানায় এজাহার নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।