স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪ ঘটিকায় ডাক্তার ফাতেমা সিদ্দিকার ছেলে সাকিব মাদক ও মেয়েসহ নগরীর ১৭নং ওয়ার্ড অন্তর্গত বড়বনগ্রাম রায়পাড়ার নিজ বাসভবনে পুলিশের হাতে ধৃত হয়। উল্লেখ্য, ফাতেমা সিদ্দিকা নগরীর লক্ষীপুরন্থ মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার এন্ড হাসপাতাল এর প্রধান কনসালটেন্ট। এছাড়াও তিনি ল্যাপারস্কপিক সার্জন ও ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ এবং ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রাজশাহীর গাইনী বিভাগের প্রধান। সাকিবের স্ত্রী অদিতির মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাহমখদুম থানা পুলিশের একটি টহল বাড়িতে গিয়ে হাতেনাতে সাকিবসহ বহিরাগত এক মেয়েকে গ্রেফতার করে। বাড়ির কেয়ারটেকার, কাজের মেয়ে ম্যানেজার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত সাকিবের শয়ন কক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ গ্রাম গাজাও উদ্ধার করে দায়িত্বরত পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহমখদুম থানার এসআই নাসির। পরে উভয়কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সাকিবের স্ত্রী অদিতিসহ ঐ বড়ির কেয়ারটেকার ও কাজের মেয়ে বলেন, সাকিব প্রায়শই তার স্ত্রীকে মারধর করতো। এছাড়াও সে মাঝেমধ্যে মেয়ে মানুষ নিয়ে নিজ বাড়িতে আনন্দফুর্তি করতো। এরই ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় অদিতি শাহমখদুম থানায় যান লিখিত অভিযোগ দিতে। থানার অফিসার্স ইনচার্জ বিষয়টি তদারকির জন্য এসআই নাসিরকে নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক এসআই নাসির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। প্রায় ঘন্টাখানেক ডাকাডাকির পরেও সাকিব দরজা না খুললে অদিতি তার শাশুড়ী ডাক্তার ফাতেমা সিদ্দিকাকে ফোন দিয়ে সাকিবকে দরজা খুলতে বললে অবশেষে সে দরজা খোলে। দায়িত্বরত পুলিশরা বাড়ির সকলকে নিয়ে সাকিবের রুমে প্রবেশ করে অভিযোগের সত্যতা পান। সমস্তকক্ষ তল্লাশি করে গাজাসহ সমস্ত কক্ষেজুড়ে অসংখ্য সিগারেটের মুথাসহ দামি ব্রান্ডের সিগারেট পান। স্থানীয়রাসহ ঐ বাড়ির বুয়ারা জানান বহুদিন ধরে সাকিব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের মেয়ে নিয়ে বাসায় আনন্দফুর্তি করতো। এদিকে, সাকিব ও তার ধৃত বান্ধবী জানান, সাকিবের স্ত্রী নিয়মিত নেশা করতো। তাদের মধ্যে অনেকদিন ধরেই বনিবনা নেই। অভিযুক্ত সাকিব বলেন, আমার স্ত্রী অদিতি প্রায়শই আমাকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতো। সংসারে সে অশান্তি ছাড়া আমাকে কিছুই দেয়নি। আমি আমার বান্ধবীর কাছে আমার সংসারের অশান্তির কথা শেয়ার করছিলাম। চল্লিশ মিনিট ধরে পুলিশ ও আপনার স্ত্রী দরজা নক্ করার পরেও কেনো দরজা ফোলেননি জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি। এ বিষয়ে জানার জন্য থানার ওসিকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন না ধরার কারণে ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা এসআই নাসির জানান, সাকিব ও ঐ নারীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।