স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী মহানগরীর ভিআইপি রোড বলে বিবেচিত বিমানবন্দর সড়ক। আর এই সড়ক ঘেষেই অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় পঞ্চাশটি দোকনঘর। রাস্তাটি চারলেনে উর্ণীত হবার কারণে যানচলাচলে বেড়েছে দ্বিগুণ গতি। যার কারণে, বেপোরোয়া গতির কারণে বাড়ছে জীবনের ঝুঁকি। গেল কয়েকবছর আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক চাঁপায় মৃত্যু হয়েছে শিক্ষার্থীসহ আরো একজন ব্যক্তির। এছাড়াও গত ৩০ আগস্ট নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের ধাক্কায় অল্পের জন্য বেঁচে যান রাস্তা ঘেষা অস্থায়ী বেশ কয়েকজন দোকানী। আর এমনই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে বাশ-টিন আর ছাউনি দিয়ে পঞ্চাশটি দোকানঘর। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দেও মাঝে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ব্যবসায়ীদেরকে অস্থায়ী ভিত্তিতে পুনর্বাসনের কথা বলে নওদাপাড়া বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে এইরকম অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে সেই অভিযোগের সত্যতাও মেলে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, গত ১ সেপ্টেম্বর নওদাপাড়া স্কাউট ভবনের পশ্চিমপাশের্^ নির্মাণাধীন চারলেন রাস্তার পূর্বদিকের ফুটপাত ও রাস্তার উন্মুক্ত অংশে নওদাপাড়া বাজার কমিটির সেক্রেটারি দুটো ব্যানার লাগিয়ে দেয়। ব্যানার লাগানোর কয়েকঘন্টা পরেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন এসে সেখান থেকে ব্যানারটি সরিয়ে নিতে বলেন। এবং ঐস্থানে যেনো কোন প্রকার অবৈধ দোকনঘর তৈরি করতে নিষেধ করেন।
স্থানীয় প্রতক্ষদর্শীরা জাননা, সেক্রেটারি সাত্তার দলীয় ক্ষমতা দেখিয়ে সড়ক বিভাগের লোকজনদেরকে বলেন, আপনারা এখন চলে যান আমি আপনাদের বড় সাহেবের সাথে দেখা করে অনুমতি নিয়ে নেবো। এবং ওইদিন (১ সেপ্টেম্বর) রাতেই কমিটির সেক্রেটারি নিজে দাড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে সরকারি রাস্তা দখলপূর্বক অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মার্কেট সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তারের কাছে ফোন করে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মেয়র লিটন সাহেব ও দুই কাউন্সিলর (১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ড) এর অনুমতি সাপেক্ষে এখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে মার্কেটের দোকানঘর তৈরি করা হচ্ছে। রাসিকের চলমান মার্কেটটি নির্মাণ শেষ হলে সেখানে ব্যবসায়ীদেরকে পুণরায় স্থানান্তর করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানের আধাপাঁকা মার্কেটটিতে প্রায় আশিটি দোকানঘর আছে। সড়ক বিভাগের জায়গায় মেয়র মহোদয় কিংবা কাউন্সিলরদের কি অনুমিত দেবার এখতিয়ার আছে জানতে চাইলে সাত্তার আবারো পূর্বের উত্তরেই অটল থাকেন।
সেক্রেটারি সাত্তারের কথামতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পুণঃনির্বাচিত মেয়র এ,এইচ,এম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বহুতল মার্কেট নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়িদেরকে কোন এক স্থানে পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেবার জন্য আমি ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু তাই বলে, কোন প্রকার অনুমতি ব্যতীরেকেই সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে যত্রতত্র ঝুঁকিপূর্ণবস্থায় দোকানঘর স্থাপনের কথা আমি বলিনি। এ বিষয়ে ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদত আলী শাহুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটাতো সড়ক বিভাগের জায়গা। তাছাড়া রাস্তাটি এখন চারলেনে উর্ণীত করনের কাজ চলছে। সেটাতো আমার পৈত্রিক সম্পত্তি না যে, আমি অনুমতি দেবো। মেয়র মহোদয়ও সেখানে মার্কেট নির্মাণ করতে বলেননি। ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম পচার বক্তব্য নেবা জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর নওদাপাড়া বাজার কমিটির সম্পাদকসহ বেশকিছু লোকজন অফিসে এসেছিলেন। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করার কারণে বাজার কমিটি দেখা করতে পারেনি। তবে, সড়ক বিভাগের জায়গাতে অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করার অনুমতি তাদেরকে দেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, মাসখানেক আগেও ঐ একই স্থানে নওদাপাড়া সাপ্তাহিক হাট বসেছিল। চলমান কাজে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি হ্রাসে তাদেরকেও সড়ক বিভাগ মাইকিং করে উচ্ছেদ করেছে। ইাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ীরা বলেন, নওদাপাড়া এলাকায় এখনো অনেক মার্কেটে অসংখ্য দোকানঘর ফাঁকা পরে আছে। ব্যবসায়ীদেরকে স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে স্থানান্তর করলে ভাল হতো। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করাটা খুব কঠিণ। তাছাড়া, এই বর্ষা মৌসুমে দোকানে থাকা পণ্যগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাড়াও চুরির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। দোকানঘর বরাদ্দের নামে বাজার কমিটি তো আমাদের কাছ টাকা কম নেননি। তাহলে আমাদেও বিপদেও সময় আমাদেরকে এমন ঝুঁকিপূর্ণবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে কেনো। উল্লেখ্য, বর্তমান নওদাপাড়া বাজারটির স্থলে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ তরা বিশিষ্ট এই মার্কেটটি প্রথম ধাপে চারতলা করার কথা বলে জানাচ্ছেন মার্কেট কমিটি।