আলিফ হোসেন, তানোর
রাজশাহীর তানোরে বিএনপির নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চোরাগোপ্তা হামলা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিএনপির দু’গ্রুেেপ মধ্যে বিরাজমান মতবিরোধ ও কোন্দলের সুত্র ধরে নিজেদের মধ্যে একের পর চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা ঘটায় এমন আতঙ্কের সুত্রপাত। এতে দলটির সাংগঠনিক কর্মকান্ড মূখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি এক গ্রুপ সভা আহবান করলে তাদের ঠেকাতে অপর গ্রুপ একই স্থানে সভা আহবান করে কর্মসূচি পন্ড করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফলে সংগঠন বিরোধী এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অথচ দেশে কদিন পরেই সাধারণ নির্বাচন। এসময় যেখানে দলের ইস্পাত কঠিন ঐক্য প্রয়োজন,সেখানে কেউ কারো নেতৃত্ব মানছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের দায়িত্বশীল এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, এসব জন্য সাবেক মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন দায়ী। তিনি বলেন, অরাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতি হয় না, এটা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি রাজনীতিতে সরব হবার পর থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্যর সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গত শুক্রবার উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপির দু”গ্রুপ একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সভা আহবান করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনো গ্রুপকেই সভা করতে দেয়নি। তৃণমুলের অভিযোগ, ইউপিতে দুটি কমিটি রয়েছে একাংশের সভাপতি খলিলুর রহমান খলিল এবং অপরাংশের সভাপতি প্রভাষক জাহিদ হোসেন। খলিল গ্রুপকে সমর্থন দিচ্ছে কৃষক দলের সদস্য সচিব মালেক মন্ডল ও জাহিদ গ্রুপকে সমর্থন দিচ্ছে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান।
এদিকে গত ১ লা জুলাই মুন্ডুমালা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ইদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দীন। এদিকে একই দিন একই সময়ে তালন্দ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপির উদ্যোগে দেবিপুর মোড়ে ইদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান। এদিন মুন্ডুমালা অনুষ্ঠান শেষ করে শরীফ উদ্দীন নেতাকর্মীদের নিয়ে তানোর পৌর বিএনপির সম্পাদক অসুস্থ আব্দুস সালামকে দেখতে গাইনপাড়া মহল্লায় তার বাড়িতে যান। এখবর জানতে পেরে প্রতিপক্ষের লোকজন মাথায় হেলমেট ও মুখে কাপড় বেঁধে চোরাগোপ্তা স্টাইলে হামলা করে এবং বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নেতাকর্মী ফসলী জমির আইল ভেঙে দৌড়ে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি এরই জের ধরে ওয়ার্ড যুবদল নেতা জুবায়েরকে আমশো গ্রামে একাই পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বেধড়ক পেটায়। এছাড়াও সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রহমান ৮ জুলাই ডাকবাংলো মাঠে সাত ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা বিএনপির সমন্বয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয়কোন্দলের কারণে সেটা করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
এবিষয়ে কামারগাঁ ইউপি কৃষকদলের সভাপতি ইউসুফ আলী জানান, আমরাসহ শরীফ সাহেব অসুস্থ নেতাকে দেখতে গেছি, আর সেখানে মুখে কাপড় বেঁধে মিজানের লোকজন চোরাগোপ্তা স্টাইলে হামলা ও মারপিট করেছে, এভাবে মাস্তানি করে নেতা হওয়া যায়না।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব এসএম মালেক মন্ডল জানান, গত ৮ জুলাই অসুস্থ নেতাকে দেখতে যাওয়ার কারনে যদি মিজানের লোকজন মারপিট হামলা করে এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে। কারন সেখানে সাবেক মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন ছিলেন। তাকে নিয়ে আজেবাজে কথাবার্তা বলেন এবং মিজানের কর্মচারী জুবাসহ কয়েকজন মুখে কাপড় বেধে সিনিয়র নেতাদের মারপিট করে। আমার তো মনে হয় ক্ষমতাসীন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা বি-টিম হয়ে কাজ করছে। কারন এখন দলের কঠিন সময়, এখন কেন এসব ঘটনা ঘটবে। এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নানের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করে বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি শুনেছি, এখন রাজশাহী মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলা যাবে। এবিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসব আমাদের নিজেদের মধ্যে ঘটনা এসব বাদ দাও বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।