৯ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

তানোরে ভিজিএফ চাল চুরির ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৩, ১১:১৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
তানোরে ভিজিএফ চাল চুরির ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা
বিজ্ঞাপন

তানোর প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবিদা সিফাত ঘটনা তদন্ত করেন এবং আরো তদন্ত করতে হবে বলে জানান। ফলে এখানো তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি, অথচ ইউপি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পকেটের পয়সা খরচ করে তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছে, চাল চুরি অভিযোগের কোনো প্রমান পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তা বলে অপপ্রচার শুরু করেছে  ইউপি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। তদন্তকারী কর্মকর্তা যেখানে বলেছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি আরো তদন্ত করতে হবে, সেখানে সচিব মোস্তাফিজুর রহমান কিসের ভিত্তিতে  অতিউৎসাহী হয়ে পকেটের টাকা খরচ করে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করছেন। ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা কি কোনো লিখিত দিয়েছেন সচিব মোস্তাফিজুর রহমানকে। যদি না দেন তাহলে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেনো টাকা-পয়সা খরচ করে

ইউপি সচিবের কেনো এসব অপপ্রচার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তানোরের কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল চুরির অভিযোগ এনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৫ জুন রোববার দিবাগত রাতে কলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন থেকে এসব চাল  বের করে পাচারের সময় সচিবকে হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসি। এসময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। এই চাল চুরির ঘটনায় ইউপি সচিবের সঙ্গে আরো রাঘব-বোয়াল জড়িত রয়েছে। এসব রাঘব-বোয়ালের নাম বেরিয়ে আশার আশঙ্কা থেকেই সচিব এমন প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছে। কারণ

মানুষ যদি তাকে ফাঁসাতেই চাই তাহলে এতোদিন পর কেনো, আরো অনেক আগেই তাকে ফাঁসাতে পারতেন তাই নয় কি। আসলে ধরা পড়ার পর সচিব ঘটনা ধাঁমাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। কারণ সে ধরা পড়েছে তদন্তে আরো অনেক রাঘব-বোয়ালের নাম বেরিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও চাল যদি খারাপ হয় সেটা পরিবর্তন প্রয়োজন হলে দেখবেন চেয়ারম্যান-মেম্বার সচিব কেন? আবার সারাদিন কোনো খবর নাই রাতের আঁধারে চাল পরিবর্তনের নামে বাইরে নেয়াটাও তো রহস্যজনক। সচিব এমনিতেই নিয়মিত অফিস করেন না। অথচ ঘটনার দিন গভীর রাত পর্যন্ত তার অফিস করা নিয়েই তো জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বলেন, বন্যার্তদের জন্য চাল বরাদ্দ এসেছিল সেটার কি হলো তারা কিছুই জানেন না। এদিকে উপকারভোগীরা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে কলমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মোস্তাফিজুর রহমান  এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব চালের মান ভাল ছিলো না, সেই জন্য চালগুলো পাল্টানোর জন্য বের করা হচ্ছিল। মানুষ না বুঝে এসব করছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন