বৃহস্পতিবার

২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সেনা সদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে : সেনাপ্রধান ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন নগরী পাবেন রাজশাহী মহানগরবাসী : রাসিক প্রশাসক নগরীর দুই হত্যা মামলায় ৯ জন গ্রেপ্তার, তালিকা হচ্ছে কিশোর গ্যাং সদস্যদের নাচোলে পাল্টে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা দিলো ভূমি মন্ত্রণালয় আরএমপি কমিশনার-রাসিক প্রশাসকের মধ্যে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক বিনিময় সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর : এমপি মিলন ক্ষুধা মেটাতে সন্তান বিক্রি করছেন আফগানরা সেবা প্রদান করা করুণা নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধাপরাধ মামলার দুই পলাতক আসামি চারঘাট থেকে গ্রেফতার

Paris
Update : শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার দুই পলাতক আসামিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হচ্ছে- রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কালুহাটির মৃত হাবিল উদ্দিনের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৭৫) ও মৃত মকছেন ঘোরার ছেলে খেতাব আলী (৮০)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে তাদের গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেল ৪টায় বিষয়টি নিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খেতাব আলী অসুস্থ থাকায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর অপর আসামি মফিজ উদ্দিনকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

এ সময় এসপি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল চারঘাট মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মফিজ উদ্দিন ও খেতাব দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তারা এলাকায় ফিরে আসে। বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানার পর তা নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে চারঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন ও উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাইল আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক এই দুই আসামিকে চারঘাট উপজেলার কালুহাটির নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার পর থেকে তারা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের মধ্যে খেতাব এলাকায় কুখ্যাত রাজাকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে চারঘাট থানা এবং সংলগ্ন এলাকায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত। গ্রেপ্তার এই দুজনকে আদালতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে এর মধ্যে বয়স বিবেচনায় অসুস্থ থাকায় আসামি খেতাবকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসপি আরো বলেন, চারঘাট থানায় ২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল দায়েরকৃত মামলায় মোট ছয়জন আসামি ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং তিনজন পলাতক ছিলেন। পলাতক তিনজনের মধ্যে এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো একজন পলাতক রয়েছেন। তবে তার সন্ধানেও আমাদের টিম কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

প্রেস ব্রিফিংকালে মামলার বিষয়ে এসপি বলেন, রাজশাহীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ আইনে ১৭টি মামলা হয়। এসব মামলায় ১৩২ জনকে আসামি করা হয়। যাদের মধ্যে ৫৩ জন মারা গেছেন। বাকিরা জামিনে ও একটি মামলায় সাজা হয়ে কারাগারে আছেন একজন। প্রেস ব্রিফিংকালে রাজাকার খেতাব ও মফিজের নৃশংসতার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চারঘাট থানা ও সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় রাজাকার খেতাব ও মফিজসহ তাদের সহযোগীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে এরা অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং নৃশংসভাবে মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছিলেন।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris