এফএনএস
পাঁচ সিটি করপোরেশনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে দুটিতে বর্তমান মেয়ররা বাদ পড়েছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী করা হয়েছে দলের প্রবীণ নেতা আজমত উল্লাহ খানকে। বরিশালেও বর্তমান মেয়রকে বদলে প্রার্থী করা হয়েছে আবুল খায়ের আবদুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত)। সিলেটে এবার মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে। খুলনা ও রাজশাহীতে বর্তমান দুই মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এবং এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনই আবার নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন। গতকাল শনিবার গণভবনে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে মেয়র প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়। গণভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নামগুলো উপস্থাপন করেন দলের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংসদ নির্বাচনের আগে আগামী ২৫ মে গাজীপুর, ১২ জুন খুলনা ও বরিশাল, ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর পাশের গাজীপুরে ১৭ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বহিষ্কারের পর দলে ফেরা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, বর্তমান প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরন। তবে সেখানে প্রবীণ নেতা টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহকে প্রার্থী হিসেবে ফিরিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। আজমত ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। সেবার বিএনপির এম এ মান্নানের কাছে হেরেছিলেন তিনি। সেই হারের পেছনে দলীয় নেতা জাহাঙ্গীরের বিরোধিতাকে দায়ী করেন আজমত সমর্থকরা। পরের নির্বাচনে ২০১৮ সালে আজমতের পরিবর্তে জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ। ভোটে জিতে তিনি মেয়রও হয়েছিলেন। কিন্তু পরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর মেয়র পদও হারান। সম্প্রতি অবশ্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে ফিরিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। বরিশালে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতজনের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে খোকন সেরনিয়াবাতকে। তারা দুজনই আবার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য। সাদিক আবদুল্লাহ হলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। আর খোকন সেরনিয়াবাত হলেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ভাই। তবে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি বরিশালে বেশ আলোচিত। বরিশালে সাদিক আব্দুল্লাহকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে একাধিক প্রার্থী ছিল, আমরা কাকে দেব, এটা তো আমাদের বিষয়। প্রার্থীদের মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে আমরা একজনকে দিয়েছি। আর এটা তো মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সিলেটে গতবার প্রার্থী ছিলেন বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান। তিনি মারা যাওয়াতে এবার সেখানে নৌকার প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। তার মধ্য থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে। সেখানে বর্তমান মেয়র বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। খুলনা ও রাজশাহীতে তালুকদার খালেক এবং লিটনের উপর আগের দুইবারের মতো ভরসা রাখছে আওয়ামী লীগ। এবার খুলনায় চারজন এবং রাজশাহীতে তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।