মানবিক কাজে পিছিয়ে নেই নগর ট্রাফিক পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অসহায় আর বিপদগ্রস্থ নাগরিকদের সহোযোগিতা করার লক্ষ্যে মানবিক আর নাগরিক কাজের উদাহরণ দেশজুড়ে প্রায় অপ্রতুল বলাই চলে। কিন্তু তথাপি, কখনো কখনো দেখামেলে এই ধরনের দায়িত্ববোধের। সাধারণ নাগরিক ব্যতীত পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের এই ধরনের মানবিক কিংবা নাগরিক ধাঁচের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা খুব একটা চোঁখে না; কিন্তু তথাপি, এই ধরনের মানবিক কাজ সকলের অগোচরেই দেশের কোথাও না কোথাও হচ্ছে হরহামেশায়। কিন্তু, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির প্রশ্নবিদ্ধ কাজের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে মাঝেমধ্যে তারা অমানবিক হয়েই প্রতিয়মান হয়ে থাকেন।
তাদেরদ্বারা ভাল কিংবা মানবিক কাজগুলো সাধারণ মানুষের চোঁখে পড়লেও সেগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে পড়ে আমাদেরই স্বার্থান্বেষী মনোভাবের কারণে। তেমনই এক মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে দেখাগেল রাজশাহী নগরীর রেলগেটস্থ কামারুজ্জামান চত্বরের উত্তর পার্শ্বে দায়িত্বরত নগর ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যের কর্মকান্ডে। প্রত্যক্ষদর্শীরা উনার সেই মানবিক কাজ দেখে অনেকটাই খুশি হয়েছেন। দূর থেকে বাহ্বাও দিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।
গতকাল রেলগেটস্থ কামারুজ্জামান চত্বরে নগর ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন সড়কের জ্যাম নিরসনসহ গাড়ি চলাচলের নিয়ন্ত্রন ঠিক রাখার জন্য। উক্ত সময়ে গৌরহাঙ্গা গোরস্থান সংলগ্ন ফুটপাতে দাড়িয়ে ছিলেন এক অন্ধ বৃদ্ধ। তিনি উঁচু ফুটপাত থেকে নামার জন্য চেষ্টা করছিলেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু চোঁখের না দেখার কারণে তিনি সাহস করে নামতে পারছিলেন না। সেটি দেখে দায়িত্বরত সেই ট্রাফিক পুলিশ নিজের দায়িত্ব ইশারা করে অন্য একজন ট্রাফিক পুলিশকে একটু দেখার জন্য অনুরোধ করে তৎক্ষণাৎ সেই বিপদগ্রস্থ বৃদ্ধকে সহোযোগিতার জন্য এগিয়ে যান। অন্ধ বৃদ্ধের হাত ধরে তিনি তাকে ফুটপাত থেকে রাস্তায় নামতে সহোযোগিতা করেন।
তারপর বৃদ্ধ ঐ ট্রাফিক পুলিশকে কি যেনো বলা মাত্রই তিনি তার হাত ধরে একটি রিক্সা ডাক দেন। এরপর; ঐ রিক্সাতে অন্ধ বৃদ্ধ মানুষটিকে উঠিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। কোর্টে যাবেন। রিক্সা খুব আস্তে আস্তে চালাবা। রিক্সা থেকে নামারসময় রিক্সাচালককে সাহায্য করার জন্যও ট্রাফিক পুলিশ অনুরোধ করেন। নিজের পকেট থেকে ভাড়া দিতে চাইলে অন্ধ বৃদ্ধ ব্যক্তিটি ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে ভাড়া না নিয়ে উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে রিক্সা নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে াকেন। তিনি চলে যাবার সময় ট্রাফিক পুলিশের পরিহিত সরকারি ইউনিফর্মের নেমপ্লেটে লেখা নাম থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় উনার নাম মারুফ।
এবিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে, উক্ত এলাকায় অপেক্ষমান বেশ কয়েকজনকে বলেন, এমন মানবিক কাজ সকলেরই করা উচিত। পুলিশ কিংবা ট্রাফিক পুলিশের এমন মানবিক ও নাগরিক কাজ দেশবাসির জন্য অবশ্যই কাঙ্খিত বিষয়বস্তু হিসেবেই প্রতিয়মান হবে। সরকারি দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি যদি উনারাও মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন তবে আমরা সাধারণ মানুষরা কেনো পিছিয়ে থাকবো। মানবিক ও নাগরিক কাজে সকলের অংশগ্রহণই পারে দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে ধাবিত করতে।
