বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মধ্যস্থতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আরা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভালোমতোই মাঠে নেমেছে। এই নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সকল দল যেন অংশগ্রহণ করে সে ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাস এ নির্বাচনে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এই সংলাপে তারা মধ্যস্থতা করারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে দূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে এই মধ্যস্থতা করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। যদিও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব এখনও কোনো রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানা পর্যন্ত সরকারের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনেও আলোচনার সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে, সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে বিএনপি নেতাদের আলাপ-আলোচনা এবং অনানুষ্ঠানিক সংলাপ চলমান রয়েছে। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও সংলাপ নিয়ে একধরনের অনীহা ছিল দুই দলের মধ্যেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই সময় চমক দেখান। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় নির্বাচনের আগে সংলাপে আগ্রহী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত বর্জন করেছিলো কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপিকে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব চেষ্টাই করেছিলেন। তিনি প্রথমে জাতীয় সংসদের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব বেগম খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি টেলিফোনে বেগম খালেদা জিয়াকে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং নির্বাচন নিয়ে দূরত্ব দূর করার জন্য প্রস্তাব রেখেছিলেন কিন্তু সেই প্রস্তাব বেগম খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করে। তার ফলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। ওই সময় কূটনীতিকরা বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তার সব চেষ্টাই করেছেন। এরপর বিরোধীদল নির্বাচনে না আসাটা ছিল তাদের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অবশ্য আগ বাড়িয়ে প্রস্তাব আসেনি। এসময় বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। ড. কামাল হোসেনকে মানেন এবং ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। যদিও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই আগ্রহকে নাকচ করে দিয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাদেরকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশে জামায়াত এবং স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া সব রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি আমন্ত্রণ জানান, সবার সাথে তিনি সংলাপ করেন এবং শেষ পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলকে তিনি নির্বাচনের মাঠে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচন হয়েছিলো একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু এবার বিএনপি বলছে তারা নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশের নির্বাচনকে অর্থবহ করতে গেলে সকল রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপির অংশগ্রহণ করা জরুরি। আর নির্বাচনের আগে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হওয়ায়ও জরুরি। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা মধ্যস্থতা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে কমনওয়েলথ মহাসচিবের প্রতিনিধি স্যার নিনিয়ান বাংলাদেশে এসেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দূতাবাস নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলো কিন্তু এই সমস্ত মধ্যস্থতা গুলো কোনো কাজে লাগেনি। এখন দেখার বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্যোগ নিচ্ছে সেই উদ্যোগ কতটুকু সফল হয়। সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
