৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

নাচোলে রাস্তার ধারের নিমগাছ মারা যাচ্ছে অজানা রোগে

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২১, ৩:২০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead, আঞ্চলিক
নাচোলে রাস্তার ধারের নিমগাছ মারা যাচ্ছে অজানা রোগে
বিজ্ঞাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : রাস্তার দুই ধার দিয়ে ঘণ করে লাগানো আছে নিমগাছ। ৫-৬ মাস আগেও গাছগুলোতে ছিলো সবুজ পাতা, গাছের নিচে ছায়াতে বসে বিশ্রাম নিতো রাস্তার দুই ধারের ফসলী জমির কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ করে অজানা রোগে গাছের পাতা ঝরতে শুরু হয় গত ৫-৬ মাস আগে। এখন ২২ বছর বয়সী মাঝারি সাইজের নিমগাছগুলো পাতাবিহীন অবস্থায় মরে শুধু দাঁড়িয়ে আছে। প্রকৃতির সবচেয়ে নির্মল অক্সিজেনের জোগানদাতা নিমগাছের এমন করুণ দশা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সালালপুর হতে আমলাইন গ্রামের মধ্যবর্তী রাস্তার দুই ধারে থাকা হাজার খানেক নিমগাছের। অজানা রোগে রাস্তার দুই ধারের গাছগুলো এভাবে মারা যাওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। গোমস্তাপুর সদর ইউনিয়নের রানিবাড়ি-চাঁদপুর গ্রামের রিফাত আলী বলেন, কয়েক মাস থেকে পিয়ারার জমিতে কাজ করার কারনে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। এখন রাস্তার ধারের নামে নিমগাছগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ, সবগুলো মরে যাচ্ছে। নিমগাছগুলোর সঠিক পরিচর্যা করা উচিত যথাযথ কর্তৃপক্ষের। খলসী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুর রাকিব প্রায় প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে এই রাস্তায়। সে জানায়, কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে মরতে দেখা যাচ্ছে। কি কারনে মরছে এলাকার কেউ বলতে পারছে না। আমরা চাই, গাছগুলোর রোগ নির্ণয় করে সঠিক পরিচর্যা করা হোক। কারন গাছ ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব। এছাড়াও গাছগুলো বেঁচে থাকলে আমরা এ থেকে নির্মল অক্সিজেন পাবো। সরকারের উচিত এদিকে আরো বেশি নজর দেয়া। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনেই এভাবে মারা যাচ্ছে নিমগাছগুলো, এমনটাই দাবি স্থানীয় কৃষক মোতাহার আলীর। তিনি বলেন, সম্ভবত গাছের জড় নষ্ট হওয়ার কারনেই ১০-১২ বছর বয়সী মাঝারি সাইজের গাছগুলো মরতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা এসব ব্যাপারে খুব একটা সচেতন নয়। গাছগুলো যাতে কেটে নিয়ে যেতে না পারে, সেসব বিষয় খেয়াল রাখা হলেও মারা যাচ্ছে এবিষয়ে কারো মাথাব্যাথা নেয়। নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. হাবিবুল্লাহ্ জানান, ১৯৯৮ সালের বন্যার পর আমলাইন হতে সালালপুর রাস্তার দুই ধারে ইউনিয়ন পরিষদ নিমগাছের বীজ বপন করে। সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান ইসরাইল হক ৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর রাস্তার দুই ধারে ১বস্তা নিম বীজ বপন করে। প্রায় হাজার খানেক গাছ এখন মাঝারি সাইজে পরিনত হয়েছে। তবে গত কয়েকমাস আগে থেকে হঠাৎ অজানা কোন রোগে সবগুলো গাছ মরতে শুরু করেছে। প্রথমে পাতা ঝরছে, পরে পুরো গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদির আহমেদ ভুলু মুঠোফোনে জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা একটি বিষ প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন। তবে সম্ভবত বিষে কাজ হবে কি না তা নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ রয়েছে। কারন এখানকার মাটি ভালো না। মাঝারি সাইজের হয়েও গাছগুলো কোন কাজে আসলো না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বলেন, বেশ কয়েকটি কারনে নিমগাছগুলো মরতে পারে। যেমন, উইপোকার আক্রমণ, মাটির দোষ। এমনকি অজানা নতুন রোগেও এমন হতে পারে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন