রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জানালেন গুদামে চাহিদার কয়েক গুণ সার মজুত আছে
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে সার নিয়ে কোনো সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। বরং কয়েক ধরনের সারের বর্তমান মজুত জেলার মাসিক চাহিদার কয়েক গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। তিনি বলেছেন, সারসংকট নিয়ে বাইরে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর। গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তাই কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আসন্ন আমন ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার। পরিদর্শনকালে তিনি গুদামে থাকা সার মজুতের তথ্য তুলে ধরে বলেন, বিসিআইসির বাফার গুদামে বর্তমানে রয়েছে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি এবং ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার। অন্যদিকে বিএডিসির গুদামে রয়েছে ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি এবং ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি সার। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, চলতি মাসে রাজশাহীর জন্য টিএসপি সারের বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। অথচ গুদামে মজুত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। একইভাবে চলতি মাসে জেলার ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও একটি গুদামেই মজুত রয়েছে প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া। ইউসুফ আলী বলেন, “সারের কোনো ক্রাইসিস নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাঁরা দোকানে বিক্রি করছেন। ” সার নিয়ে সংকটের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর কারণেই কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে গুদামে পর্যাপ্ত সারের মজুত দৃশ্যমান এবং এ বিষয়ে লুকানোর কিছু নেই। বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সার নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
