সর্বশেষ সংবাদ
ক্রমাগত কৃষিণ্যের দরপতনে বিপাকে কৃষক অভিযোগ তদন্তে আমিরপুর ফেরিঘাটে রাসিক প্রতিনিধি দল সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, শূন্য লাইনে রুখে দিলো বিজিবি বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মব্যস্ত সময় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা

আমানা গ্রুপের কাছে মসজিদের জমি বিক্রি চক্রের সবাইকে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে : এমপি আয়েন

Paris
Update : শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘লোভ-লালসা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। তাই মূল্যবান জিনিস উন্মুক্ত থাকলে মানুষের কুদৃষ্টি পড়ে। আজকের প্রতিবাদ সভার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জমিটি পুনরুদ্ধার করা। শুধুমাত্র জমি উদ্ধার করলেই হবে না, সেটা মানবতার সেবায় কাজে লাগাতে হবে। জমিটি তারকাটার বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া হবে ও মাদ্রাসাটিকে পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করা হবে। আর ‘জমি বিক্রি চক্রের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সবাইকে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে’। তাঁদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় পবার পুড়াপুকুর দাখিল মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মসজিদের নামে দানকৃত জমি বিক্রয়ের বিষয়ে প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন। পুড়াপুকুর মাদ্রাসার সামনে আয়োজিত উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, আমানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. ফজলুল করিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জমি ফেরত দিতে চেয়েছেন। মাদ্রাসার একটি নতুন কমিটি করা হবে। সেই কমিটির কাছে জমি হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো জানান, পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পুড়াপুকুর দাখিল মাদ্রাসা ও কবরস্থানের বেচে দেওয়া জমি উদ্ধার করা হবে। এই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে, তারা সমান অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি মাদ্রাসাটির দুই বিঘা জমি আমানা গ্রুপের কাছে বেঁচে দেন ইউনিয়ন যুবলীগের (সাবেক) সভাপতি আসলাম সরকার। তিনি ভূয়া কার্যবিবরণী তৈরি করে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সেজে জমিটি বিক্রি করেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। পবার খড়খড়ি এলাকায় অবস্থিত এই জমিটির মূল্য অন্তত দুই কোটি টাকা। তবে দলিলে মূল্য দেখানো হয় মাত্র ৫১ লাখ টাকা। এই জমি বিক্রি করে দিয়ে আসলাম সরকার ও স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা আর্থিকভাবে নিজেরা লাভবান হন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। জমি বিক্রির এ খবর জানাজানি হলে গত ১ অক্টোবর এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেদিন তাঁরা বলেছিলেন, আসলাম সরকার আগে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ছিলেন। এখন তিনি কেউ নন। তাও কমিটির সভাপতি সেজে তিনি জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।

তাঁরা আসলামের শাস্তি দাবি করেন। সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার মো. একরামুল হক এর সভাপতিত্বে ও পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নবিবর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ’লীগের সদস্য ও পারিলা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শোহরাব আলী, রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য ও পবা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. এমদাদুল হক, পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম রাজুসহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আসলাম সরকার বলেন, মাদ্রাসাটা পরিত্যক্ত। তাই পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন ফজলুল করিম। তিনি মাদ্রাসার সঙ্গে মসজিদ, কবরস্থানের জন্য জানাজা ঘর, এতিমখানা, হেফজখানা-সবই করে দিতে চেয়েছিলেন। সে জন্য সবকিছু তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছিল। কিন্তু জমিটা দানের। আবু বকর সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসাকে জমিটা দান করেছিলেন। দানের জমি আরেকবার দান করা যায় না। সে কারণেই একটা মূল্য দেখিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিলো। আসলাম সরকার বলেন, ‘যে উদ্দেশ্যে জমি বিক্রি করা হচ্ছিল, তা এলাকাবাসীর পছন্দ না। তাই এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে। এখন এমপি সাহেব এসে জমি পুনরুদ্ধাদের কথা জানালেন। সেটিই হবে। তবে এই জমি বিক্রির জন্য অসৎ কোন উদ্দেশ্যে ছিলো না।’


আরোও অন্যান্য খবর
Paris