স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতিকে ভোট পেয়েছেন ৬২৮৫টি। তার নিকটতম স্বতন্ত্র মেয়র প্রাথী জান্নতুল ফেরদাউস নারিকেল গাছ প্রতিকে ভোট পেয়েছেন ৬১৬টি। আর স্বতন্ত্র মেয়র প্রাথী গোলাম কিবরিয়া রুলু মোবাইল ফোন প্রতিকে ২৭৬ ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রাথী ৃআমিনুল ইসলাম ৩০ ভোট পেয়েছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপুর্ণভাবে ভোট গ্রহন চলেছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৬ টি ভোট কেন্দ্র ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। গোদাগাড়ী পৌরসভায় ভোটার ৩২ হাজার ৯০২ ভোট। উপ নির্বাচনে ২১দশমিক ৯ ভাগ ভোট পড়েছে বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান। গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলামের মৃত্যুতে মেয়র পদটি শুণ্য হলে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর রাজনৈতিক দুরদর্শীতা এবং তার দুই প্রতিনিধি তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের নিরলস প্রচেষ্টায় গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী দলীয় প্রার্থী (নৌকা প্রতিক) আলহাজ্ব অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাসের নিরুঙ্কুশ বিজয় হয়েছে বলে মনে করছেন নেদা-কর্মীরা। স্থানীয় সাংসদ এবং তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্বাচনী কৌশলের কাছে বিরোধীদের পরাজয় হয়েছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেস্টায় প্রায় ডুবন্ত নৌকাকে ভাসিয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জয়ের মুখ দেখলো আওয়ামী লীগ। অথচ নির্বাচনের মাঠে শুরুতে নৌকার কোনো আওয়াজ ছিল না, নৌকাডুবির আশঙ্কায় নেতাকর্মীরাও ছিল শঙ্কিত। স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বিষয়টি উপলব্ধী করে দুই উপজেলা চেয়ারম্যানকে আহবান জানান তারা যেনো তৃণমুলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে নৌকার পক্ষে মাঠে নেমে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করেন। তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়না ও গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের প্রচার-প্রচারণা ও প্রচেস্টায় নৌকার পালে হাওয়া লাগে নেতাকর্মীরাও হয় উজ্জ্বীবিত, আওয়ামী লীগে ফিরে আশে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য।
তারা নেতা কর্মীদের নিয়ে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারণায় রাতারাতি ভোটের মাঠের চিত্র পাল্টে বিজয়ী হবার দৌড়ে এগিয়ে যায় আওয়ামী লীগ যেখান থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। তাদের নির্বাচনী কৌশল বিশেষ করে এমপির রাজনৈতিক দুরদর্শীতার কাছে বিএনপি-জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সম্ভবনাময় সাজানো ভোটের মাঠ তছনছ হয়ে যায় যেখান থেকে আর তারা ফিরে আসতে পারেনি। তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ ও নৌকা বিজয়ী হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে ভোটের মাঠে এমপি ফারুক চৌধুরী যে অপ্রতিদন্দি নেতৃত্ব সেটা আবারো প্রমাণ হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
তারা বলছে এমপির দিকনির্দেশনা ও দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রচেস্টায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যেই প্রাণচাঞ্চল্যর সৃস্টি হয়েছিল তারই ধারবাহিকতায় নৌকার এমন নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। এদিকে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্য ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার সৃস্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, সাংসদের রাজনৈতিক দুরদর্শীতা ও নির্বাচনী কৌশলের কাছে তারা পরাজিত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিজয়ী প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস (নৌকা প্রতিক) বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীসহ সকলের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, আগামি দিনে কাজের মধ্যদিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পুরুণ করবেন।