এফএনএস : টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন চালু হয়েছে। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যু রোধে সরকারি নির্দেশনায় গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বাস, লঞ্চ, ট্রেন ও উড়োজাহাজসহ সব ধরনের গণপরিবহন শর্তসাপেক্ষে ফের চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর আগে লকডাউনজনিত কারণে গত দুই সপ্তাহ রাজধানীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো প্রকার যানবাহন ও মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল।
লকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি পাওয়ায় ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ছোট-বড় বাস, সিএনজিচালিত অটো রিকশা, ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, টেম্পুসহ বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী চলাচল শুরু হয়। ভোর বেলায় পরিবহন ও যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে রাস্তায় গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এদিকে, লকডাউনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের মতো মার্কেট ও শপিংমল খুলেছে। এসব মার্কেটের কর্মচারীদের সকাল থেকেই বিভিন্ন গণপরিবহনে করে মার্কেটের সামনের স্টপেজে নামতে দেখা যায়।
সরেজমিন রাজধানীর ধানমন্ডি, কলাবাগান, শাহবাগ, গুলিস্তান মতিঝিল, পুরানা পল্টন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ লকডাউন শেষে রাস্তায় সকাল থেকেই লোকজনের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাসের হেলপারদের উঁচু গলায় যাত্রীদের ডাকতে দেখা যায়। আর আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার জন্য একাধিক ব্যাগ নিয়ে বহু যাত্রীকে বাসে উঠতে দেখা যায়।
এদিকে, করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি লকডাউন আরও ১৪ দিন অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিলেও সরকার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার এখন সবচেয়ে বেশি। লকডাউন শিথিল করা হলেও গণপরিবহনে অর্ধেক সংখ্যক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহনসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র চলাফেরার ক্ষেত্রে মানুষকে শতভাগ মাস্ক পরিধানের পরামর্শ দিয়েছেন।