১৩ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

এয়ার ইন্ডিয়ার সেই ফ্লাইটের পাইলটের গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বিশ্ব, স্পেশাল নিউজ
এয়ার ইন্ডিয়ার সেই ফ্লাইটের পাইলটের গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে
বিজ্ঞাপন

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফ্লাইটটির প্রধান পাইলটের দুই দফা ডোপ টেস্টেই মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার সব পাইলটের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ৪ আগস্ট। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। ক্রুজিং অবস্থায় থাকা বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে উড়োজাহাজের ভেতরে তীব্র নেগেটিভ-জি পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের অংশে আঘাত লাগে বলে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন।
ঘটনার পর দিল্লিতে বিমান অবতরণের সময় পাইলটদের ড্রাগ স্ক্রিনিং করা হয়। প্রথম পরীক্ষায় পাইলটের শরীরে মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরে দ্বিতীয় পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলও পজিটিভ আসে এবং গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রয়টার্সকে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও গাঁজা সেবনের ফল পজিটিভ আসে। এনডিটিভির প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে। গাঁজা ‘উইড’ নামেও পরিচিত।
ঘটনার সময় ককপিটে কী হয়েছিল
এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সতর্কসংকেত বাজার সময় প্রধান পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের পেছনে দাঁড়িয়ে উড়োজাহাজের এয়ার-কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ওই সময় অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরের দিকে উঠে যায়।
তখন বিমানটি পরিচালনা করছিলেন কো-পাইলট। তিনি উড়োজাহাজের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে আনেন। এর ফলে তীব্র নেগেটিভ-জি পরিস্থিতি তৈরি হয়। উড়োজাহাজের ভেতরের আলগা জিনিসপত্রের পাশাপাশি পাইলট ও কো-পাইলটও কিছু সময়ের জন্য ওপরের দিকে ভেসে যান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান পাইলট নিজেও ওপরের দিকে ভেসে যান। ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও কো-পাইলটকে শূন্যে ভাসতে দেখেন তিনি। পরে কোনাকুনিভাবে কষ্ট করে নিজের আসনে ফিরে গিয়ে সিটবেল্ট বাঁধেন।
আসনে ফিরে পাইলট ‘আই হ্যাভ কন্ট্রোলস’ বলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। এরপর উড়োজাহাজের গতি ও উচ্চতার আরও ক্ষতি ঠেকাতে থ্রোটল সর্বোচ্চ কন্টিনিউয়াস থ্রাস্টে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।
ঘটনার সময় প্রধান পাইলট নিজের আসনে না থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাইলটের কোনো ভুল পদক্ষেপ, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি হাইড্রোলিক সমস্যার কারণে বিমানটি হঠাৎ নিচে নেমেছিল, তা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।-এফএনএস

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন