৯ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কর্মমূখর রাজশাহীর কামারপল্লী

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২১, ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কর্মমূখর রাজশাহীর কামারপল্লী
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : আর কয়েকদিন বাকি পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানির ঈদের। কোরবানির পশু কাটাকুটিতে চাই ধারালো দা, বটি, হাসুয়া ও ছুরি। তাই ঈদকে সামনে রেখে কামারপল্লীগুলোতে বেড়ে গেছে ব্যস্ততা। যেন দম ফেলার সময় নেই। কোরবানী দাতাদের কেউ কেউ পুরোনো সরঞ্জাম শান দিয়ে প্রস্তুত করছেন। বছরের অন্যান্য সময়ে চাহিদা কম থাকলেও কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কামারদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুন। তাই রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানের কামারপল্লীগুলো ইতোমধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের ছন্দোময় পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। এদিকে ধাতব সরঞ্জামাদি শান দিতেও ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। লোহা আগুনে পুড়িয়ে ও হাতুরী দিয়ে পিটিয়ে কামরারা শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় তৈরী করেন একেকটি সামগ্রী। এসব সরঞ্জাম তৈরী করতে তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহী মহানগরীর কামার সম্প্রদায়ের লোকজন। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোরবানীর ঈদের আগে তাদের কাজের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুন।

একটু বেশি উপার্জনের আশায় দিনরাত এক করে ক্রেতাদের পছন্দ মতো মাংস কাটার যন্ত্রপাতি তৈরী করেন কামাররা। ক্রেতাদের চাহিদা মতো সরবরাহ করতে হিমশিমও খেতে হয় কামারদের। এদিকে পবিত্র ঈদুল আযহার বেশ কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখন থেকেই পশু কোরবানী করার সরঞ্জাম কিনতে কামারদের কাছে ছুটে আসছেন অনেকে। কেউ পুরোনো সরঞ্জাম শান দেওয়ার জন্য আসছেন। তাই ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত শানদানীরাও।

রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া বাজারের কামরুল কামার জানান, কোরবানি ঈদে গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ ইত্যাদি পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। এসব পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার জন্য চুড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যস্ত ধারালো দা-বঁটি, ছুরি-ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার প্রয়োজন হয়। ঈদে ব্যবহৃত ধারালো সরঞ্জামের বিপুল চাহিদার জোগান দিতে প্রায় এক মাস আগে থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। কামরুল কামার আরোও জানান, বর্তমানে পুরোদমে কাজ চলছে, যেন নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই।

ঈদের আর কয়েকদিন বাকি থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরঞ্জামের আকৃতি ও লোহা ভেদে প্রতিটি দা ৬০ থেকে ৪৭০ টাকা, ছুরি ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোরা প্রতিটি সর্বোচ্চ ৬০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি ২০০ থেকে ৪৫০ টাকা। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে ৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন