২৩ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সরকার নিরুৎসাহিত করতে চাইলেও সঞ্চয়পত্রেই ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১, ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থনীতি
সরকার নিরুৎসাহিত করতে চাইলেও সঞ্চয়পত্রেই ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : মুনাফার হার বেশি হওয়ায় বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে। যদিও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়েছে। আর এখনো ওই সুদহারই বহাল আছে। তাছাড়া ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকার জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমাও কমিয়ে দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী একক নামে ৫০ লাখ এবং যৌথ নামে ১ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

কিন্তু তারপরও করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে। সাধারণ মানুষ এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল তার চেয়ে প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছে। অর্থবছরের বাজেটে এর লক্ষ্য ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সংশোধন করে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা করা হয়।

মূলত ব্যাংকে আমানতের সুদ হার কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। সেজন্য বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৯১ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর এ সময়ে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের ৫৭ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা মুনাফা ও মূল টাকা পরিশোধ হয়েছে।

ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে এ সময় নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৭২৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর একক মাস হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে মোট ৫ হাজার ৮৮৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। তার বিপরীতে মূল অর্থ পরিশোধ হয়েছে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ওই হিসাবে এপ্রিলে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট বিক্রি বলা হয়।

বিক্রির ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। সেজন্যই অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ঋণ বা ধার হিসেবে গণ্য করা হয়। তাছাড়া এবারের বাজেটে ২ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বা পোস্টাল সেভিংস কিনতে হলে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

২০১৫ সালের ২৩ মে মাসের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি। জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ করা অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর সরকার মুনাফা দেয়। মেয়াদপূর্তির পর বিনিয়োগ করা অর্থও ফেরত দেয়া হয়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন