স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সর্বত্রই চলছে কথাকথিত লকডাউন। যার কারণে, সরকারি অফিস আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার মতো আন্তঃজেলা বাস ও ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ আছে লকডাউনের পর থেকেই। একজেলা থেকে অন্যজেলায় বাস চলাচল বন্ধ থাকার উদ্দেশ্য একটিই; আর সেটি হচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা। এক জেলার মানুষ অন্যজেলাতে বাঁধাহীনভাবে যাতায়াত করলে অসংখ্যাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে করোনার সংক্রমণ। যার কারনেই নীতিনির্ধারকরা আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগ এখনো পর্যন্ত বন্ধ রেখে নিজস্ব জেলার ভেতর যাতায়াত উন্মুক্ত রেখেছে।
করোনার নতুন ভেরিয়েন্টের থাবায় ইতিমধ্যেই বির্পযস্ত পাশর্^বর্তী দেশ ভারত। ইতিমধ্যেই প্রায় চারকোটি ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। যার কারণেই এক জেলার মানুষ অন্যজেলাতে যাতায়াতের বিষয়টি এখন অনেকটাই হুমকি স্বরূপ বলে মন্তব্য নগরীর সচেতন মানুষদের। ঈদকে কেন্দ্র করে বাস মালিক ও শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে দেশের নীতিনির্ধারকরা জেলাভিত্তিক বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিজস্ব জেলার মধ্যে বাস চলাচলের অনুমতি দিলেও অসাধু ব্যক্তিরা সেই সুযোগটিকে বিপরীতমুখিভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টায় তৎপর রয়েছে।
রাজশাহী মহানগর থেকে অন্যজেলার বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ঢাকা বাসটার্মিনাল থেকে নিয়মিতভাবে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার যোগে বিভিন্ন জেলাতে যাচ্ছে মানুষ। আবার অন্যজেলা থেকেও নিয়মিতভাবেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঐসকল মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার যোগে নিয়মমিতভাবেই রাজশাহীতেও দেদাড়ছে প্রবেশ করছেন হাজারো ব্যক্তি। যশোরে ইতিমধ্যেই ভারতের নতুন করোনা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ছয়জন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশের প্রতিটি সীমান্ত এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হলেও কোন না কোনভাবে প্রবেশ করছে ভারতে আটকে থাকা অনেকেই।
ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কারণেও অবৈধ পন্থাবলম্বনে দেশের সীমানায় প্রবেশ করছে বলেই ভারতে আঘাতহানা করোনার ভয়ঙ্কর ভেরিয়েন্টটি দেশে ইতিমধ্যেই প্রবেশ করতে পেরেছে। যার কারণে একজেলার মানুষ অন্যজেলাতে বাঁধাহীনভাবে প্রবেশ করলে অতিসহসায় সংক্রমণ প্রসারিত হবে একজনের দেহ থেকে অন্যদেহে। বাঁধাহীন এই যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে নানাপ্রশ্ন। যেখানে আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগ বন্ধ সেখানে এক জেলা থেকে অন্যজেলা আবার কখনো কখনো এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বাঁধাহীনভাবে কিভাবে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে ?
গতকাল নগরীর ঢাকা বাসটার্মিনালে দেখাগেছে দুটি বড় আকৃতির হাইস মাইক্রোবাসে করে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশজন ব্যক্তি নগরীতে প্রবেশ করেন। তাদের কেই এসেছেন কুষ্টিয়া থেকে, কেউবা যশোর থেকে। আবার কেউবা এসেছেন বগুড়া থেকে। আর অন্যদিকে, রাজশাহী থেকেও ঐ একই পন্থায় অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান সাপেক্ষে কেউবা যাচ্ছে ঢাকা, কেউবা যশোর কিংবা কুষ্টিয়া, আবার কেউ কেউ যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা ও বিভাগগুলোতে।
এতে করে যেমন একজেলা থেকে অন্যজেলায় সংক্রমণের ঝুঁকি পাচ্ছে বৃদ্ধি ঠিক অন্যদিকে, একটি মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেটকারে সক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী পরিবহনেও ঝুঁকি বাড়ছে করানা আক্রান্তের। হাসিবুল ও ইমন নামের দুজন যাত্রী রাজশাহী থেকে ঢাকা গেছেন মাথাপিছু পণেরশ টাকা ভাড়া দিয়ে। অন্যদিকে, যশোর থেকে অনেকেই এসেছেই হাজার বারোশ টাকা ভাড়া প্রদান সাপেক্ষে। দেশের হাইওয়ে সড়কগুলোতে নিয়েমিতভাবে টহলের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের সদস্যদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে এক বিভাগ থেকে অন্যবিভাগ, একজেলা থেকে অন্যজেলাতে অবাঁধ এই যাতায়াত সেটি সাধারণ ও সচেতন ব্যক্তিদের প্রশ্ন।
কেউ কেউ বলছেন, হাইওয়ে রাস্তাগুলোতে দায়িত্বে থাকা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকধাপে উৎকোচ দিয়ে বাঁধাহীনভাবে যাতায়াত করছে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারগুলো। কখনো কখনো এ্যাম্বুলেন্সে করেও যাতায়াত করছে একজেলা থেকে অন্যজেলাতে বলেও অভিযোগ আছে। সেটিরও সত্যতা পাওয়াগেছে নগরীর ঢাকা বাস টার্মিনালে। সেখানে গিয়ে দেখাগেছে, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের পাশাপাশি বেশকয়েকটি এ্যাম্বুলেন্সও দাড়িয়ে আছে দূরদূরান্তে যাওয়া যাত্রীদের আসায়।